কেন ভরসা অভিষেকের উপর? বিশ্বকাপ জিতে মুখ খুললেন সূর্য
এক সাক্ষাৎকারে সূর্য জানান, একদিন সঞ্জু নিজেই তাঁর কাছে এসে জানতে চেয়েছিলেন, দলের জন্য তাঁর কাছ থেকে কী আশা করা হচ্ছে।
Truth Of Bengal: টি–২০ বিশ্বকাপের আগে সময়টা মোটেই সহজ ছিল না সঞ্জু স্যামসনের জন্য। শুভমন গিলের জায়গায় দলে সুযোগ পেলেও নিউজিল্যান্ড সিরিজে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি তিনি। সেই কারণেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জায়গা হয়নি তাঁর। অথচ শেষ পর্যন্ত সেই সঞ্জুই হয়ে উঠলেন বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। কঠিন সময় পেরিয়ে কীভাবে তিনি আবার ফর্মে ফিরলেন, সেই গল্পই তুলে ধরেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
এক সাক্ষাৎকারে সূর্য জানান, একদিন সঞ্জু নিজেই তাঁর কাছে এসে জানতে চেয়েছিলেন, দলের জন্য তাঁর কাছ থেকে কী আশা করা হচ্ছে। উত্তরে সূর্য বলেছিলেন, তিনি এমন সঞ্জুকে দেখতে চান যে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। সেই কথাই পরে সঞ্জু দলের বাকিদের সামনে তুলে ধরে বলেছিলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের প্রয়োজনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য নিয়েই খেলতে হবে সবাইকে।
খারাপ সময়েও সঞ্জুকে সাহস জুগিয়েছিলেন সূর্য। তিনি বলেছিলেন, সময়টা কঠিন হলেও তাঁকে সেই সময়টা পেরিয়ে যেতে হবে। ভাগ্যে যদি ভাল কিছু লেখা থাকে, তা একদিন না একদিন ঠিকই মিলবে। সঞ্জুও সেই বিশ্বাস নিয়েই নিজেকে তৈরি করছিলেন এবং সুযোগ পেতেই সেটাকে কাজে লাগিয়েছেন।
বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে সঞ্জুর তিনটি ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সূর্যের মতে, চাইলে সঞ্জু প্রতিটি ম্যাচেই শতরান করতে পারতেন। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত মাইলফলকের পিছনে না ছুটে দ্রুত রান তোলার দিকে মন দেন। এতে অন্য ব্যাটারদেরও বেশি বল খেলার সুযোগ মেলে। ফলে শিবমের মতো ব্যাটাররা অল্প বলেই বড় রান তুলতে পেরেছেন এবং দলও বড় স্কোর গড়েছে।
অভিষেক শর্মার উপরও ছিল সূর্যের অটুট আস্থা। তিনি তরুণ ব্যাটারকে আগেই আশ্বাস দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম বল তিনিই খেলবেন, ফলাফল যাই হোক না কেন। সূর্যের বিশ্বাস ছিল, কয়েক ওভার সময় পেলেই অভিষেক ম্যাচ শেষ করে দিতে পারেন। সেই বিশ্বাসেরই প্রমাণ মিলেছে ফাইনালে, যেখানে মাত্র আঠারো বলে পঞ্চাশ রান করে ম্যাচের গতি বদলে দেন তিনি।
ফাইনালে অক্ষর পটেলও সূর্যকে বলেছিলেন, দলে দু’জন বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার রয়েছে এবং সেদিন তাঁরাই ম্যাচ জেতাবেন। শুরুতেই দ্রুত রান ওঠায় ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের দখলে চলে যায়।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক ম্যাচে অক্ষরকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তে তিনি খুবই রেগে গিয়েছিলেন। সূর্য জানান, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে তাঁর রাগ হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। পরে তিনি অক্ষরের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং জানান, দলের স্বার্থেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অক্ষরও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বুঝে নিয়ে দলের জন্যই এগিয়ে গিয়েছিলেন।






