রাজ্যের খবর

বাঁকুড়ার স্কুলে তৈরি হচ্ছে পড়ুয়াদের হাতের ভেষজ আবির

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিফিনের বিরতিতে পড়ুয়ারা মিলে তৈরি করছে বিভিন্ন ভেষজ আবির।

Truth Of Bengal: কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: রঙের উৎসবকে সামনে রেখে যখন বাজারে ভেজাল রং ও আবির নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে, তখন তারই মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কাড়ল বাঁকুড়া-২ নম্বর ব্লকের বাঁকি-সেন্দড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে স্কুলের শ্রেণীকক্ষই এখন রীতিমতো রং তৈরির কারখানা।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিফিনের বিরতিতে পড়ুয়ারা মিলে তৈরি করছে বিভিন্ন ভেষজ আবির। এ বার পলাশ ফুলের অভাব থাকলেও তাতে দমে যায়নি তারা। পলাশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিট, পালং শাক, গাজর, গাঁদাফুল, কাঁচা হলুদ ও অপরাজিতা ফুল। মূল উপাদান হিসেবে থাকছে অ্যারারুট।

পড়ুয়াদের কথায়, বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক আবিরেই রাসায়নিক উপাদান থাকায় ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দোলের পর বহু শিক্ষার্থীর চামড়ায় অ্যালার্জি বা র‍্যাশের সমস্যা দেখা যায়। তাই নিরাপদ বিকল্প হিসেবে নিজেদের হাতে ভেষজ রঙ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিট দিয়ে লাল, কাঁচা হলুদ দিয়ে হলুদ, পালং শাক দিয়ে সবুজ এবং অপরাজিতা ফুল দিয়ে বেগুনি রঙের আবির তৈরি করছে তারা। সেই আবির দিয়েই পালন করা হবে রঙের উৎসব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল মুখোপাধ্যায় জানান, দোলের পর স্কুলে এসে বহু ছাত্রছাত্রীর ত্বকে সমস্যা দেখা যেত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাড়িতে চাষ হওয়া শাকসবজি শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, ভেষজ আবির তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব এটাই আমরা পড়ুয়াদের হাতে-কলমে শেখাচ্ছি।পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। দোলের আগে এমন সচেতনতা বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে নজির গড়ল বাঁকি-সেন্দড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।