রাজ্যের খবর

জোট জল্পনার অবসান! বাংলায় ২৯৪ আসনেই একা লড়ার সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের

অন্যদিকে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর শিবির বামেদের সঙ্গে হাত না ছাড়ার পক্ষে ছিলেন বলেও জানা যায়।

Truth Of Bengal: জোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের অন্দরমহলে নানা জল্পনা চলছিল। কখনও শোনা যাচ্ছিল ‘একলা চলো’ নীতির কথা, আবার কখনও বামেদের সঙ্গে জোট বজায় রাখার পক্ষে মত উঠে আসছিল। প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে শুভঙ্কর সরকারের শিবির শুরু থেকেই জোট না করার পক্ষেই ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। অন্যদিকে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর শিবির বামেদের সঙ্গে হাত না ছাড়ার পক্ষে ছিলেন বলেও জানা যায়।

এই টানাপড়েনের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট ভেঙে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। অর্থাৎ, কোনও জোট ছাড়াই রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার রাজনীতিতে এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম মীর জানান, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “এবার বাংলায় দলের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই চাইছেন আমরা একাই লড়ি। ২৯৪ আসনেই প্রার্থী দেওয়া হবে। বাম বা অন্যদের সঙ্গে জোটের ফলে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙেছে। তাই সমস্ত নেতাদের মনে হয়েছে জোট নয়, একাই লড়া হবে। বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা যা চাইছিলেন সেটাই কেন্দ্রীয় নেতারা মেনেছেন।”

এদিকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, “আমি তো পার্টির কর্মী। পার্টি যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি সেটাই মেনে নেব।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত মত থাকলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না।

কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া এসেছে বাম শিবির থেকেও। খানিক খোঁচা দিয়েই বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এ তো ভাল কথা। একক দল হিসাবে তাঁদের অবশ্যই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মমতাকেই সাহায্য করবে বলে আমার ধারনা।”

অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কংগ্রেসকে মালদহ-মুর্শিদাবাদে মুসলমানরা ভোট দেয়। আর তৃণমূল এখানে সরকার চালাচ্ছে মুসলমানদের ভোটে। আমাদের এগুলো নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। আমরা হিন্দুদের এক করব।” তাঁর মন্তব্যে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে মেরুকরণের রাজনীতির ইঙ্গিতও স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Related Articles