ভারতের বিজয়রথের সামনে আরেকবার গুঁড়িয়ে গেল কিউয়ি প্রতিরোধ
সবচেয়ে বড় পার্থক্য ছিল একরকম পড়ে পাওয়া সুযোগে তিলকের জায়গায় দলে ফিরে ঈশানের দুর্দান্ত ব্যাটিং।
যুধাজিৎ মুখোপাধ্যায় (বিসিসিআই কোচ ও প্রাক্তন ক্রিকেটার): ভাবা যায়? ২০৯ টার্গেট তাও প্রায় ৫ ওভার বাকি থাকতে থাকতেই তুলে ফেলল স্কাই ফোর্স। কিউয়িদের শুরুটা কিন্তু দারুণ হয়েছিল কনওয়ে আর সেইফারটের দৌলতে। ভারতকে ম্যাচে ফেরায় আবার সেই স্পিন জুটি বরুণ (১/৩৫) এবং কুলদীপ (২/৩৫)। অর্শদীপ আবার মার খেলেও সঙ্গে যথাযথ ছিল রানা-হার্দিক এবং দুবেরা। লক্ষ্যণীয় যে স্পিনারদের যুদ্ধে আরেকবার বাজিমাত করল ভারত। কিউয়ি স্পিনাররা যেখানে ৫.২ ওভারে ৬৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছে, সেখানে ভারতের স্পিনাররা ৯ ওভারে ৮২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অনেকটাই পার্থক্য গড়ে দিল আরেকবার। কিন্তু সবচেয়ে বড় পার্থক্য ছিল একরকম পড়ে পাওয়া সুযোগে তিলকের জায়গায় দলে ফিরে ঈশানের দুর্দান্ত ব্যাটিং।
অবস্থা খুবই খারাপ- আগের ম্যাচে ৩ ওভারে প্রথম দুই উইকেট গিয়েছিল- এবারে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে খুইয়ে বিশাল চাপে পড়ে ভারত। তার মধ্যে অভিষেকের উইকেটও ছিল- যার পরে খেলার ভবিষ্যৎবাণী করে এমন একটি ওয়েবসাইটে কিউয়িদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ বলে দিয়েছিল। ঈশানও কিন্তু জানত, এই অবস্থায় যদি সে একটা ভাল ইনিংস খেলতে পারে, তাহলে অনেক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলের দরজাও তার জন্যে খুলে যেতে পারে। এবং কী খেলল ছেলেটা! প্রথম ২৯ বলে ১৫টি বাউন্ডারি মেরেছে সে, অর্থাৎ প্রতি ২ বলে ১ টি। ৬ রানে ২ – এই কোণঠাসা অবস্থা থেকে বেরোতে সে বেছে নিয়েছিল ‘দুর্ভাগা’ ফোককে, যে প্রথম ওভারে ২৪ এবং ৩ ওভারে মোট ৬৭ রান (কিউয়িদের পক্ষে রেকর্ড) দেয়। যদিও ফোক বারবার নো বল আর ওয়াইড করে ঈশানকে কিছুটা সুযোগ করে দিয়েছিল, কিন্তু কোনওভাবেই ঈশানের এই দুর্দান্ত প্রত্যাঘাতকে ছোট করা যাবে না।
২০২৩-এর পরে এই প্রথম জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ- তারপর সামনে বিশ্বকাপ- এবং দল হারার মুখে- ভয়াবহ এই ত্রিমুখী চাপের সামনে মরিয়া অবস্থায় যেন জীবনের ইনিংস খেলল ঈশান। কিউয়িদের ওপর এতটাই তার প্রাধান্য ছিল যে তার সঙ্গে ৯ ওভারের কমে গড়ে তোলা শতরানের জুটিতে স্কাই-এর মত আগ্রাসী ব্যাটারের অবদান ছিল মাত্র ১৯। ঈশান যখন আউট হল তখন সেই একই ওয়েবসাইটে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশর বেশি। আক্ষরিক অর্থে খেলা ঘুরিয়ে দেওয়া ব্যাটিং একেই বলে। তবে স্কাই-এর কথা না বললে সত্যিই অন্যায় হবে। ঈশান আউট হওয়ার পরে রান তোলার গতি যাতে না কমে সেদিকে নজর রেখে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করল ক্যাপ্টেন স্কাই।
ওই সময়ে বাকি ৮১ রান মাত্র ৬.১ ওভারে তুলে ফেলে শুধু নিউজিল্যান্ড নয় বিশ্বকাপের বাকি দাবিদারদেরও যেন সে বার্তা পাঠাল- হুঁশিয়ার- ফর্মে এসে গেছে ভারতের মিস্টার ৩৬০। ঈশানের মতই সেও টার্গেট করেছে ফোক কে- এক ওভারে ৪টি ৪ ও একটি ছয় মেরে। উল্লেখ্য যে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ভারতের তিন ব্যাটার ঈশান, অভিষেক এবং স্কাই যথাক্রমে ইতিমধ্যেই ২১, ২২ এবং ২৩ বলে ৫০ করে ফেলেছে। ভারতের এবং গুরু গম্ভীরের জন্যেও এটা একটা বিরাট স্বস্তির সংবাদ। আরেকটা স্বস্তির খবর কুলদীপের ফর্মে ফেরা এবং দুবের নিয়মিত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। এইসবই গম্ভীরদের পরিকল্পিত টিম কম্বিনেশনকে অটুট রাখবে। তাই সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে স্কাই ফোর্সকে এখন সত্যিই অপরাজেয় দেখাচ্ছে।






