কবে দিল্লির নির্বাচন কমিশন অফিসে অভিযান মমতার? খোঁজ নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পরপর চারটি চিঠি পাঠিয়েছেন,সর্বশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন শনিবার।
Truth Of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অফিস ঘেরাও করতে দিল্লি যাবেন, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এখন তৎপর। বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস ও মমতার অন্যতম সহযোগী প্রতীক জৈনের বাসভবনে আচমকায় হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের প্রতিবাদে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা। এছাড়া শুক্রবার তিনি যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলও করেন। মিছিলের সময় তিনি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কল্যাণ, আমাদের নেক্সট ডেস্টিনেশন হল নির্বাচন কমিশনের অফিস। চলো লড়াই হবে। কলকাতা থেকে দিল্লি।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিস্তারিত তদারকি করছে। সূত্রের খবর, মমতার দিল্লি যাত্রা মূলত ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইএআর) নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে। তৃণমূল সূত্রে বলা হয়েছে, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মমতা সরাসরি ইসি অফিসে গিয়ে বিষয়গুলি তুলে ধরবেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পরপর চারটি চিঠি পাঠিয়েছেন,সর্বশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন শনিবার। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন যে ভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে, তাতে আমি স্তম্ভিত এবং বিরক্ত।” এছাড়াও মমতা দাবি করেছেন, এসআইআর আতঙ্কের কারণে ইতিমধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মমতার সম্ভাব্য দিল্লি সফর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে। এর আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরের বাইরে তৃণমূল সাংসদদের আচমকা ধর্নার ঘটনা মন্ত্রকের জন্য অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক ছিল। শুক্রবার সকালেই আটজন তৃণমূল সাংসদ শাহের অফিসের বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন।
এছাড়াও, বারুইপুরে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভ্যানিশ কুমার তৈরি থাকুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তারা আরও সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তৃণমূলের প্রকাশ্য ঘোষণার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী যখন দিল্লি সফরের পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন, তখন তিনি ঠিক কী পদক্ষেপ নেবেন, তা কেন্দ্রের নজরে থাকবে।






