North Bengal and Sikkim: তুষারশুভ্র সিকিম! কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
শুধু রাস্তাঘাট নয়, গাছপালা থেকে শুরু করে স্থানীয়দের বাড়ির ছাদ—সবই এখন বরফের তলায়।
Truth of Bengal: নতুন বছরের শুরুতেই সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে পাহাড়। উত্তরবঙ্গের সান্দাকফু থেকে শুরু করে ওপার সিকিমের নাথু-লা, সর্বত্রই এখন বিরাজ করছে তুষারের সাম্রাজ্য। বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হওয়া এই তুষারপাত পাহাড়ের রূপ বদলে দিয়েছে। ফালুট, সীমানা কিংবা সিকিমের জুলুক ও ছাঙ্গু হ্রদ এখন তুষারশুভ্র। শুধু রাস্তাঘাট নয়, গাছপালা থেকে শুরু করে স্থানীয়দের বাড়ির ছাদ—সবই এখন বরফের তলায়। পর্যটকদের কাছে এ যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি, যেখানে চোখ মেললেই দেখা যাচ্ছে মাইলের পর মাইল সাদা বরফের গালিচা।
তবে এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সমান্তরালে বাড়ছে বিপত্তিও। পাহাড়ি রাস্তায় বরফের পুরু স্তর জমে থাকায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো চলাচলে সমস্যায় পড়ছে। চাকা পিছলে যাওয়ার ভয় যেমন আছে, তেমনই কমেছে দৃশ্যমানতা। উঁচু এলাকায় বাতাসের আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলেও পর্যটকদের উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। কনকনে ঠান্ডা আর হাড়কাঁপানো হাওয়াকে উপেক্ষা করেই পর্যটকেরা ভিড় করছেন উত্তর সিকিম ও দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকাগুলোতে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলেই মেতে উঠেছেন বরফ নিয়ে খেলায়। কেউ ব্যস্ত সেলফি তুলতে, আবার কেউ ভারী শীতের পোশাকে সজ্জিত হয়ে ক্যামেরাবন্দি করছেন প্রকৃতির এই অনন্য রূপ।
শনিবার রাত থেকে তুষারপাতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গ্যাংটকের তাপমাত্রা দিনের বেলা ৮ ডিগ্রির আশেপাশে থাকলেও রাতে তা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে নাথু-লা পাসের মতো এলাকায় তাপমাত্রা এখন মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। তীব্র শীতল হাওয়ার কারণে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে গোটা পাহাড় জুড়েই। আবহাওয়া বিরূপ হওয়া সত্ত্বেও পর্যটকদের ঢল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। বিশেষ করে উত্তর সিকিমের ইয়ুংথাং উপত্যকা এবং জিরো পয়েন্টে তুষারপাতের দাপট সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে পর্যটন ব্যবসায় যেন বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে। সিকিম ও দার্জিলিংয়ের হোটেল ও হোমস্টেগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। সিকিম পর্যটন দপ্তর জানিয়েছে, বড়দিনের সময় থেকেই উত্তর সিকিমের প্রায় সব আবাসন বুকড হয়ে আছে। গত রবিবার একদিনেই ৬ হাজারের বেশি মানুষ নাথু-লা এবং ছাঙ্গু হ্রদ ভ্রমণে গিয়েছেন। সিকিম সরকারের পর্যটন উপদেষ্টা এসকে সুব্বা জানিয়েছেন, তুষারপাতের টানেই মূলত এই রেকর্ড সংখ্যক ভিড়। পর্যটকদের অনেকেই এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছেন।






