দেশ

Karnataka: প্রত্যাখ্যানের চরম প্রতিশোধ! ছোটবেলার বান্ধবীকে কুপিয়ে খুনের পর জঙ্গলে আত্মঘাতী যুবক

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রফিক একটি জঙ্গলের ভেতর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

Truth of Bengal: কর্ণাটকের ইয়েলাপুর শহরে এক মর্মান্তিক রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছোটবেলার বান্ধবীকে কুপিয়ে খুন করার পর আত্মঘাতী হল এক যুবক। শনিবারের এই ঘটনায় উত্তর কন্নড় জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত তরুণীর নাম রঞ্জিতা বনসোদে এবং অভিযুক্ত যুবকের নাম রফিক ইমামসাবা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রফিক একটি জঙ্গলের ভেতর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রঞ্জিতা ও রফিক স্কুলজীবন থেকেই একে অপরের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। ১২ বছর আগে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা শচীন কাটেরার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রঞ্জিতার। তাঁদের দশ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কলহের জেরে গত কয়েক বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন ওই তরুণী। ইয়েলাপুরে নিজের বাপের বাড়িতে থেকে একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। বন্ধুত্বের খাতিরে রফিক মাঝেমধ্যেই রঞ্জিতার বাড়িতে খেতে আসতেন। বিপত্তির শুরু হয় রফিক রঞ্জিতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকে। রঞ্জিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাফ জানিয়ে দেন যে এই বিয়ে সম্ভব নয়। এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেনি রফিক। প্রতিশোধের নেশায় শনিবার কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রঞ্জিতার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। জনসমক্ষে তাকে এলোপাথাড়ি কোপানোর পর ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা রঞ্জিতাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে নিকটবর্তী একটি জঙ্গলে রফিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশ থেকে দড়ি এবং মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। উত্তর কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার দীপান এমএন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় খুন এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি নিগ্রহ বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছোটবেলার বন্ধুত্ব কেন এমন নৃশংস পরিণতি নিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Related Articles