মদ্যপান বিতর্কে সতীর্থদের পাশে বেন স্টোকস
ইংল্যান্ড শিবিরের লক্ষ্য এখন সিরিজ জেতা নয়, বরং সম্মান বাঁচিয়ে দেশে ফেরা।
Truth Of Bengal: অ্যাশেজ সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও প্রবল চাপে ইংল্যান্ড শিবির। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝের বিরতিতে ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত মদ্যপান নিয়ে ওঠা বিতর্কের মধ্যেই সতীর্থদের পাশে দাঁড়ালেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে হারের পর অভিযোগ ওঠে, ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পরে নুসা সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে ইংল্যান্ডের কয়েক জন ক্রিকেটার অতিরিক্ত মদ্যপান করেন। বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই অবস্থায় মেলবোর্ন টেস্টের আগে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন স্টোকস।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, এই পরিস্থিতি আমি কী ভাবে সামলাচ্ছি, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে সকলের ভাল চাওয়াই আমার দায়িত্ব। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কয়েক জনের পাশে থাকা এখন খুব জরুরি। তিনি আরও জানান, এই ধরনের পরিস্থিতি মানুষকে কী ভাবে প্রভাবিত করে, সেটা আমি জানি। অধিনায়ক হিসেবে যতটা সম্ভব সতীর্থদের পাশে থাকাই আমার কাজ। স্টোকসের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সিরিজ হাতছাড়া হলেও শেষ দু’টি টেস্টে দল সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল ক্রিকেটারদের পাশে থাকা। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় মাঠে নেমে সেরাটা দেওয়া এবং বাকি দু’টি টেস্ট জেতার চেষ্টা করা।
ইংল্যান্ড শিবিরের লক্ষ্য এখন সিরিজ জেতা নয়, বরং সম্মান বাঁচিয়ে দেশে ফেরা। স্টোকস স্বীকার করেছেন, সিরিজের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত দলের মূল্যায়নের মাপকাঠি হবে। তিনি বলেন, ০-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে বা সিরিজ হেরে গেলে, আপনি যাই বলুন না কেন, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হবে। এই পরিস্থিতিতে আসলে নিজের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার জায়গা থাকে না।এদিকে, ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি-কে। তিনি বলেন, নুসায় ক্রিকেটাররা অতিরিক্ত মদ্যপান করে থাকলে সেটা অত্যন্ত অন্যায়। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সিরিজ চলাকালীন এমনটা করতে পারেন না। যদিও এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেও জানান তিনি। দোষ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসিবি।উল্লেখ্য, আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে মেলবোর্নে শুরু হচ্ছে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ তথা বক্সিং ডে টেস্ট। পঞ্চম ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৪ জানুয়ারি সিডনিতে। ২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি ইংল্যান্ড। শেষ দু’টি টেস্টে স্টোকসরা সেই খরা কাটাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।






