দেশ

মনরেগার নাম বদল ঘিরে সংসদে তুমুল বিক্ষোভ, সংসদে তীব্র প্রতিবাদ বিরোধীদের

মঙ্গলবার সংসদে এই বিল পেশ হতেই তীব্র প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা।

Truth Of Bengal: মনরেগার নাম বদল নিয়ে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার মনরেগা বা মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের নাম পরিবর্তন করে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে VB-G RAM-G করার প্রস্তাব এনেছে। মঙ্গলবার সংসদে এই বিল পেশ হতেই তীব্র প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এটি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি চরম অপমান।

বিল পেশের আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, রাম সবার কাছে শ্রদ্ধেয় হলেও দেশ গঠনের নেপথ্যে মহাত্মা গান্ধীর অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীর ভূমিকা কেউ মুছে ফেলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে, যার ফলে রাজ্যগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়বে। সৌগত রায় বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানান।

এই বিলের বিরোধিতায় কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও একজোট হয়। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, গান্ধীর রামরাজ্য ছিল সামাজিক রামরাজ্য, যেখানে গ্রামস্বরাজের ধারণা ছিল। বিজেপির এই পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “রাম কা নাম বদনাম না করো।” ওয়ানড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, গ্রামীণ মানুষের রোজগারের জন্য সর্বসম্মতিতে পাশ হওয়া এই আইন দেশের প্রান্তিক মানুষদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রকল্পের নাম বদলানোর পিছনে বিজেপির এত আগ্রহ কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, রামের নামে আপত্তি নেই, কিন্তু মহাত্মা গান্ধীকে অপমান করার অধিকার কোনও সরকারের নেই। বিল পেশের পর সংসদের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা এবং ওয়াকআউট করেন। তবে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে জানান, যত প্রতিবাদই হোক না কেন, এই ‘রামজি’ বিল পাশ হবেই।

নতুন প্রস্তাবিত বিলে মনরেগার তুলনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মনরেগায় যেখানে বছরে ন্যূনতম ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি ছিল, সেখানে নতুন বিলে ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আগে টানা ১৫ দিন কাজের পর মজুরি দেওয়া হত, নতুন বিলে সপ্তাহান্তে মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল আর্থিক দায়বদ্ধতায়—মনরেগায় সম্পূর্ণ অর্থ কেন্দ্র দিত, কিন্তু নতুন ‘রামজি’ প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে ৬০:৪০ অনুপাতে খরচ বহন করতে হবে।