বন্ধ ঘরে মৃত স্ত্রীকে আগলে স্বামী, নৈহাটিতে চাঞ্চল্য
ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, বিছানায় শুয়ে রয়েছেন তৃপ্তি নন্দী এবং তাঁর পাশেই শুয়ে আছেন তাঁর জামাইবাবু।
Truth Of Bengal: বাড়ির ভিতর থেকে এক মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল নৈহাটিতে। নৈহাটি পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২২/২ শাস্ত্রী রোডের একটি বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে দেহটি উদ্ধার করে নৈহাটি থানার পুলিশ। মৃতার নাম তৃপ্তি নন্দী।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তৃপ্তি নন্দীর বোন দিদির খোঁজ নিতে ওই বাড়িতে আসেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে দরজা খোলেন তৃপ্তি নন্দীর ভাইপো।
ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, বিছানায় শুয়ে রয়েছেন তৃপ্তি নন্দী এবং তাঁর পাশেই শুয়ে আছেন তাঁর জামাইবাবু। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘর থেকে তীব্র পচা গন্ধ বেরোতে থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে।এরপর তৃপ্তি নন্দীর বোন পাড়ার লোকজনকে খবর দেন। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই স্থানীয়রা বুঝতে পারেন, দেহটি বেশ কয়েকদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে এবং তাতে পচন ধরেছে। সঙ্গে সঙ্গে নৈহাটি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পচাগলা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তৃপ্তি নন্দীর মৃত্যু বেশ কয়েকদিন আগেই হয়েছে। তবে বিস্ময়ের বিষয়, সেই মৃত্যুর খবর পরিবার বা প্রতিবেশীদের কাউকে জানানো হয়নি। দেহটি দীর্ঘদিন ধরে ঘরের ভিতরেই রাখা ছিল কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কেন এমন ঘটনা গোপন রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।প্রতিবেশীদের দাবি, তৃপ্তি নন্দীর ছেলে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। পারিবারিক পরিস্থিতি কিংবা মানসিক সমস্যার কারণেই এই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কীভাবে দিনের পর দিন একটি মৃতদেহ বাড়ির ভিতরে পড়ে থাকল, অথচ কেউ তা বুঝতে পারল না? পুলিশি তদন্তেই সেই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।






