Kebona Village: কেবোনা গ্রামের হিন্দু-মুসলিম মিলনমেলায় রাস উৎসবের মহোৎসব
এই গ্রামে যখনই রাস উৎসব আসে, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে উৎসবের আয়োজন, মেলা পরিচালনা এবং অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।
Truth of Bengal: বীরভূমের সিউড়ি থানার অন্তর্গত দু’নম্বর ব্লকের কেন্দুয়া পঞ্চায়েতের কেবোনা গ্রামটি দীর্ঘ পাঁচশো বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করছে। ছয়টি মুসলিম গ্রামের মাঝে অবস্থিত এই কেবোনা গ্রামটি মাত্র কুড়িটি হিন্দু বাড়ি নিয়ে গঠিত হলেও, প্রতি বছর এখানে রাস উৎসব পালিত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়। এই গ্রামে যখনই রাস উৎসব আসে, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে উৎসবের আয়োজন, মেলা পরিচালনা এবং অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে। তাদের মধ্যে সহযোগিতা এতটাই নিবিড় যে, সকলে একসঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করে এবং সারারাত ধরে রাস দেখেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রতি বছর এই বিশাল মেলা আয়োজনে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এখানে বিশাল ধুমধাম সহকারে অনুষ্ঠান পালিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন এবং দুপুরের প্রসাদ হিসেবে অন্নভোগ গ্রহণ করেন। এই উৎসবের একটি বিশেষ রীতি হল, যে ভক্তের যে বছরে ‘পানি’ (সেবার ভার) পড়ে, রাধা-গোবিন্দ সেই ভক্তের বাড়িতে সেবা গ্রহণ করেন। সেবা গ্রহণের পর আরতি করে তাঁদের আবার মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয় বিশ্রামের জন্য। সন্ধ্যায় আবার সন্ধ্যা আরতির পর রাধা-কৃষ্ণকে রাসমঞ্চে রাখা হয় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় গান, যাত্রা ও পালা-সহ বিভিন্ন উৎসব।
এই রাস উৎসব উপলক্ষে দূরে থাকা আত্মীয়-স্বজন ও পরিজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনও ঈদ বা কোরবানির মতো বড় উৎসব ছেড়েও এই রাস উৎসবে যোগ দিতে গ্রামে ফিরে আসেন এবং মেলায় অংশগ্রহণ করেন।
ওই এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি, শেখ এনামুল, জানান—তাঁদের কাছে এই রাস উৎসবটি সবথেকে বড় উৎসব। তাই এই উৎসবে পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ না জানালে তাঁরা মান-অভিমান করেন এবং রাগ করে থাকেন। এই কারণেই হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলকে এই রাস উৎসবের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ পাঁচশো বছর ধরে এইভাবেই কেবোনা গ্রামে একই রীতি ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।






