আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নির্দেশে ফের শুরু হল পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা

বৈঠক শুরুর ঠিক আগে সমাজমাধ্যমে পরমাণু পরীক্ষা শুরুর নির্দেশের কথা প্রকাশ করেন তিনি।

Truth Of Bengal: দীর্ঘ বিরতির পর ফের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকার যুদ্ধ দফতরকে (পেন্টাগন) অবিলম্বে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাশিয়া ও চিনের সাম্প্রতিক পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এশিয়া সফরে রয়েছেন ট্রাম্প। মালয়েশিয়া ও জাপান সফর শেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছান।

সেখানে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নির্ধারিত ছিল। বৈঠক শুরুর ঠিক আগে সমাজমাধ্যমে পরমাণু পরীক্ষা শুরুর নির্দেশের কথা প্রকাশ করেন তিনি।ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘আমেরিকার কাছে বিশ্বের যেকোনও দেশের চেয়ে বেশি পরিমাণ পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। আমার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালেই এর নবীকরণ ও সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। পরমাণু অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক শক্তি আমি ঘৃণা করি, কিন্তু অন্য দেশের পরীক্ষামূলক কর্মসূচির কারণে আমাদেরও সমান ভিত্তিতে এই পরীক্ষা শুরু করতে হচ্ছে।‘ তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পরমাণু শক্তির দিক থেকে আমেরিকার পরেই রয়েছে রাশিয়া, তার পরেই চিন। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মূলত রাশিয়া ও চিনের উদ্দেশে একপ্রকার শক্তি প্রদর্শনের বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া একের পর এক পরমাণু সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মস্কো দাবি করেছিল, তাদের ‘বুরেভেস্তনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ১৪ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম এবং সব প্রতিরক্ষা বর্ম ভেদ করতে পারে। এর পর দিনই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, পরমাণু শক্তিচালিত ড্রোন টর্পেডো ‘পোসাইডন’ পরীক্ষাতেও সফল হয়েছে রাশিয়া।পুতিনের দাবি, পোসাইডন ড্রোনটি ডুবোজাহাজ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি একটি ক্ষুদ্র পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্বারা চালিত। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্ত্র সমুদ্রের তেজস্ক্রিয় জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে উপকূল ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

উল্লেখ্য,  ১৯৯২ সালে শেষবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডারগ্রাউন্ড পরমাণু পরীক্ষা হয়েছিল। ২০০২ সালের পর থেকে আমেরিকা আর কোনও বাস্তব পরমাণু পরীক্ষা চালায়নি বরং সিমুলেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পুরনো অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করত।কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণা স্পষ্ট করছে, যুক্তরাষ্ট্র ফের খোলাখুলিভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রদর্শনে নামছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, নতুন অস্ত্রের সক্ষমতা যাচাই ও পুরনো অস্ত্রের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।