মালদার সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন, মুসলিম মহিলার হাতে হচ্ছে শ্যামা বন্দনা
শেফালী বেওয়া জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বপ্নাদেশে দেবী মায়ের নির্দেশে তিনি কালী মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন।
Truth Of Bengal: অভিষেক দাস, মালদা: স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু পুজো। শ্যামার আরাধনায় মুসলিম মহিলা। মালদার হবিবপুর ব্লকের মধ্যমকেন্দুয়া গ্রামে প্রতিবছর সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় শেফালী বেওয়ার কালীপুজো। ৭৫ বছর বয়সী শেফালী বেওয়া বর্তমানে পুজোর সবকাজ একাই করতে পারেন না। তাই গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আজও এই পুজো যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়। স্থানীয়দের কাছে এটি শেফালী বেওয়ার কালীপুজো নামে পরিচিত। শেফালী বেওয়া জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বপ্নাদেশে দেবী মায়ের নির্দেশে তিনি কালী মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন। প্রথমে তিনি ভিন্ন সম্প্রদায়ের হওয়ায় কিছুটা দ্বিধা বোধ করতেন। কিন্তু পরে গ্রামবাসীর সমর্থনে ও নানা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে তিনি নিয়মিতভাবে পুজো চালিয়ে আসছেন। মৃৎশিল্পীর পরিবার এখনও দেবীর প্রতিমা তৈরি করে থাকে, যা স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী করা হয়।
শেফালী বেওয়া বলেন, আমাদের এই বেদিতে যে দেবীমাতা জাগ্রত, তা অমাবস্যার রাতে কালীপুজার সময় না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। যারা ভক্তিভরে বেদীতে মাথা ঠুকেন, তাদের অনেক জটিল অসুখও সুস্থ হয়ে যায়। পুজোর সময় তিনি মায়ের বেদির সামনে বসে থাকেন এবং পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে যেন শারীরিকভাবেও অদ্ভুত অনুভূতি হয়।শেফালী বেওয়ার সহযোগী কর্মকর্তা সুকেশ দাস বলেন, এই কালীপুজোর মাধ্যমে আমরা সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখিয়েছি। শেফালী বেওয়ার হাত দিয়েই পুজো শুরু হয়।
দেবীমাতা আজও আমাদের গ্রামের বেদীতে বিরাজমান। গ্রামের সবাই মিলে সহযোগিতা করে পুজোর আয়োজন করে থাকি। তবে মানুষের কাছে এই পুজো শেফালী বেওয়ার নামেই পরিচিত।মালদার হবিবপুর ব্লকের এই কালীপুজো শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, গ্রামবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্তের সমাগম এই পুজোর প্রামাণ্যতা ও মাহাত্ম্যকে আরও বৃদ্ধি করে।






