Seven Kalis: তিনশো বছরের ঐতিহ্য! বালুরঘাটের হাজীপুরে একসঙ্গে সাত কালীর পুজো
এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব, সাত মণ্ডপে থাকা সাত কালীকে পুজো করেন একজনই পুরোহিত।
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: প্রায় তিনশো বছর ধরে বালুরঘাটের হাজীপুরে একসঙ্গে সাত কালীর পুজো হয়ে আসছে। ডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই পুজো আজও টিকে আছে ঐতিহ্য ও আচার মেনে। যদিও সাত কালীর মধ্যে বর্তমানে একটি পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তবু বাকি ছয় কালীর আরাধনা আজও একইভাবে চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব, সাত মণ্ডপে থাকা সাত কালীকে পুজো করেন একজনই পুরোহিত। সারারাত ধরে পুজো চলার পর সকালে হয় শেষ তথা ঘাটকালীর আরাধনা। সারাদিনব্যাপী পুজোর শেষে সন্ধ্যায় সব কালীর একসঙ্গে বিসর্জন হয়। আশেপাশেই আত্রেয়ী নদী থাকলেও রীতি মেনে বিসর্জন হয় কালীদহ পুকুরে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সাত কালী নাকি সাত বোন। প্রায় তিনশো বছর আগে এলাকার সুকুল জমিদার পরিবার এই পুজোর সূচনা করে। একজন পুরোহিত একে একে সাত কালী পুজো সারতেন, শেষে ঘাটকালীর পুজো করতে করতে ভোর হয়ে যেত। সেই প্রথাই আজও বজায় আছে। অমাবস্যার রাত পেরিয়ে গেলেও ঘাটকালীর পুজো সকালে হয়, যা বিকেল পর্যন্ত চলে।আরও একটি প্রথা হলো— কালীপুজোর পরদিন ঘাটকালীর কাছে সব কালী প্রতিমা এসে মিলিত হয়। সেদিন বিকেলেই তারা একে অপরের মুখ দেখে একসঙ্গে বিসর্জন নেন। পুজোর দিন প্রায় ৫০০টি ভোগের ডালা পড়ে ঘাটকালীর মন্দিরে।
এলাকায় রয়েছে বামাকালী, সুরকালী, চণ্ডীকালী, নির্দয়া কালী, বুড়াকালী, সন্ন্যাস কালী ও ঘাটকালী। তবে বর্তমানে সন্ন্যাস কালী মণ্ডপ সরকারি কৃষি ফার্মের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় সেই পুজো বন্ধ হয়েছে। প্রতিবছর ঘাটকালীর মাঠে বসে বড় মেলা, উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। মন্দিরের ভেতরে শীতলা দেবী, ষষ্ঠী দেবী ও মহাদেবের বেদীও রয়েছে।
মৃৎশিল্পী তাপস পাল বলেন, “আমার বাবা বহু বছর প্রতিমা তৈরি করতেন, এখন আমি সেই দায়িত্ব নিয়েছি।” ঘাটকালী সেবা সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিৎ কর্মকার জানালেন, “স্থানীয় বিশ্বাসে সাত কালীমাতা সাত বোন। ছোট বোন ঘাটকালী, তাই তাঁর পুজো সবার শেষে হয়। সারারাত ধরে একজন পুরোহিত সব কালী পুজো করেন, তাই ঘাটকালীর পুজো সকালে হয়। সন্ধ্যায় সব কালী একে অপরের মুখ দেখে একসঙ্গে বিসর্জন দেওয়া হবে।






