কেন পদ্মাসনে থাকেন মহালক্ষ্মী? জেনে নিন পুজোর আগে
মা লক্ষ্মীর আর্শীবাদ পেলে বাড়িতে অর্থের আগমন হয় বলেও বিশ্বাস করা হয়। মা লক্ষ্মীর কৃপায় মানুষের সকল ইচ্ছা পূরণ হয়।
Truth Of Bengal: দুর্গা পুজোর পরেই লক্ষ্নী পুজোয় মেতে উঠেছে আমবাঙালি। বাড়ি থেকে বারোয়ারি, সর্বত্র ধনলক্ষ্নীর আরাধনায় বিশেষ আড়ম্বর দেখা যাচ্ছে।সোমবার কোজাগরি লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন করেছে গৃহলক্ষ্মীরা।বাড়ির ধন-সম্পদ-ঐশ্বর্যও সমৃদ্ধি কামনা করে লক্ষ্মী পুজো করে ভক্তরা। মা লক্ষ্মীর আর্শীবাদ পেলে বাড়িতে অর্থের আগমন হয় বলেও বিশ্বাস করা হয়। মা লক্ষ্মীর কৃপায় মানুষের সকল ইচ্ছা পূরণ হয়।
অর্থ ছাড়া মর্ত্যের মানুষের জীবন অচল। বেঁচে থাকার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। আর্থিক লাভের জন্য দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আচার্য চাণক্যের মতে, দেবী লক্ষ্মী সর্বদা কোন না কোন স্থানে অবস্থান করেন। পুরাণ মতে,ক্ষ্মীরোদ সাগরে মহানাগের উপর শ্রী বিষ্ণুর সঙ্গে বিরাজ করেন মহালক্ষ্মী।সনাতন পরম্পরা অনুসারে,বিশেষ ৫স্থানে লক্ষ্মীর বাস রয়েছে।শাস্ত্রবিদরা বলছেন, যে ঘরে ভালোবাসা থাকে সেখানে লক্ষ্মী বাস করেন।পবিত্র-পরিচ্ছন্ন বাড়িতেই দেবীর আর্বিভাব হয় বলেও ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস।
কেন পদ্মাসনে থাকেন মহালক্ষ্মী? দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুর সহধর্মিনী। মানুষের বিশ্বাস, বিষ্ণু পদ্ম বড় ভালোবাসেন, তাই বিষ্ণু পত্মীর জন্য পদ্মাসন বাছা হয়। পদ্মাফুল আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক কোজাগরী শব্দের উত্পত্তি ‘কো জাগতি’ থেকে, যার অর্থ, ’কে জেগে আছো’? ধর্মপ্রাণ মানুষ মনে করেন, দেবী লক্ষ্মী আশ্বিনের শেষ পূর্ণিমায় মর্ত্যে আসেন।
হিন্দু শাস্ত্রে কথিত, ধনসম্পত্তি ও সমৃদ্ধির দেবী মা লক্ষ্মী আশ্বিনের শেষ পূর্ণিমায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রত্যেক মানুষকে আশীর্বাদ করেন। যার বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে, তার ঘরে প্রবেশ করেন না লক্ষ্মী। ফিরে আসেন সেখান থেকে। তাই লক্ষ্মীপুজোর রাত জেগে কাটানোর রীতি চলে আসছে বহু যুগ ধরে। কিভাবে হয় এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো? আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অর্থাৎ কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বাংলার ব্রত’ বইতে এই লক্ষ্মীপুজো সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি জানান, দেবীর কাছে ভালো ফলনের কামনা করাই আসলে এই পূজার নৃতাত্ত্বিক কারণ। পুজো বা ব্রত কথার সঙ্গে আলপনার একটি সম্পর্ক রয়েছে। আলপনা আসলে ‘কামনার প্রতিচ্ছবি।’ দেবী পুজোর উপাচার হিসেবে থাকে ফল, মিষ্টি, মোয়া, নাড়ু।লক্ষ্মীর ধর্মীয় তাত্পর্য ঘরে ঘরে প্রচার করেন ঘরের লক্ষ্মীরা।লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়ার রীতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ পুজোর সময়।






