রাজ্যের খবর

দশমীর সকাল থেকেই বিজয়ার উচ্ছ্বাস মুর্শিদাবাদে

সিঁদুর খেলার পাশাপাশি কলা বৌ, নব পত্রিকা নিরঞ্জন পর্ব করা হয় বনাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়েই।

Truth Of Bengal: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে মহিলারা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। আবারও একটা বছরের প্রতিক্ষার। একবছরের জন্য অপেক্ষা করে দশমীর দিনে মা উমা-কে বিদায় জানানো হয়। ফলে মর্ত্যবাসীর কাছে এখন বিশাদের সুর শুরু হয়েছে।

সিঁদুর খেলার পাশাপাশি কলা বৌ, নব পত্রিকা নিরঞ্জন পর্ব করা হয় বনাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়েই। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন মন্ডপে কলা বৌ-কে ঢাক, ঢোল বাজনা সহকারে পালকিতে করে নিয়ে যাওয়া হয় নিরঞ্জন জন্য।

প্রাচীন শাস্ত্র অনুসারে লাল সিঁদুর শক্তির প্রতীক। শাস্ত্র অনুযায়ী নারী হলেন শক্তি, সেই শক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সিঁদুরের ব্যবহার করা হত। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, স্ত্রী তার সিঁদুরের শক্তি দিয়ে স্বামীকে যে কোনও বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারেন।

সেই প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু মহিলারা স্বামীর মঙ্গলকামনায় সিঁথিতে সিঁদুর পরে আসছেন। বিশ্বাস করা হয়, সিঁদুরের লাল রং শক্তি ও ভালোবাসাকে বহন করে।

শাস্ত্রমতের ঊর্ধ্বে উঠে সিঁদুর খেলা কোথাও গিয়ে দুর্গারূপী নারীদের আত্মশক্তির প্রকাশ। শক্তিরূপিনী মা দুর্গাকে সাক্ষী রেখে মেয়েরা যখন সদর্পে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে, একে অপরকে রাঙিয়ে দেয় টকটকে লাল সিঁদুরে, তখন রক্তিম আভায় ঢেকে যায় চারপাশ।

এই লাল রঙ নারীর অন্তরাত্মার শক্তিকে জাগ্রত করে। নারী কারও অধীনে নয়, তার সত্ত্বা দাসত্বের বাঁধনে বাঁধা নয়, সে মুক্ত প্রাণশক্তির প্রতীক। সিঁদুরই তার স্ব-ক্ষমতায়ণের অস্ত্র, আর এই অস্ত্রেই সে সজ্জিতা।

Related Articles