রাজ্যের খবর

ব্যাঙ্কের লকারে সুরক্ষিত মা দুর্গা, সোনার প্রতিমার পুজো জয়পুরে

দেড় কেজি সোনা আর রুপার চালচিত্র দিয়ে তৈরি হয় সেই প্রতিমা।

Truth Of Bengal: পুরুলিয়ার জয়পুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এক অন্যরকম আভিজাত্য বহন করে। এখানকার প্রতিমা কাদামাটির নয়, সোনার তৈরি। তাই মায়ের আবাসও আলাদা—বছরে চারদিন রাজবাড়ির আঙিনায়, আর বাকি ৩৬১ দিন ব্যাংকের লকারে। পুলিশের কড়া পাহারায় রাজবাড়িতে প্রবেশ করেন সোনার মা দুর্গা। সেই দর্শন পেতেই ভিড় জমে জেলার কোণায় কোণায়, এমনকি ভিন জেলা ও রাজ্য থেকেও।(Purulia)

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রসংঘের নিন্দাকে উপেক্ষা করে ফের গাজায় হামলা, ইজরায়েলের আঘাতে হতাহত বহু

ইতিহাস বলছে, প্রায় চারশো বছর আগে রাজা জয়সিংহ এই অঞ্চলে এসে মুণ্ডা সর্দারকে পরাজিত করে রাজত্ব কায়েম করেন। সেই সময় থেকেই কলা বউয়ের পুজোর প্রচলন হয়। কিন্তু এক দুর্ঘটনা সবকিছু পাল্টে দেয়। অষ্টমীর পুজোর দিন আগুনে পুড়ে যায় কলা বউ। তখনই রাজা কাশিনাথ সিংহ মানত করেন, দেবী দুর্গার সোনার প্রতিমা নির্মাণ করবেন। দেড় কেজি সোনা আর রুপার চালচিত্র দিয়ে তৈরি হয় সেই প্রতিমা। সেই থেকে আজও রাজবাড়িতে সোনার দুর্গার পূজো চলে আসছে প্রথা মেনে।(Purulia)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal/

১৯৭০ সালে বড়সড় ডাকাতির ঘটনা ঘটে রাজবাড়িতে। ডাকাতদের মন্দিরের অলঙ্কার লুট করার বিষয়টি সামনে এসেছিল। তবে দেবীর সোনার প্রতিমার হদিশ মেলেনি। এরপর থেকেই জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—দেবীর নিরাপত্তার জন্য চার দিনের পূজো ছাড়া সারা বছর প্রতিমা থাকবে ব্যাংকের লকারে। আজও পালিত হচ্ছে সেই রীতি। সোনার দুর্গার এই পুজো ঘিরে রয়েছে রাজকীয় ঐতিহ্য, বিশ্বাস আর আভিজাত্যের গল্প। তাই দুর্গোৎসবের মরশুমে জয়পুর রাজবাড়ির নাম উঠে আসে অনন্য মর্যাদায়, আর ভিড় জমে দর্শনার্থীদের, কেবলমাত্র এক ঝলক সেই সোনার দুর্গাকে চাক্ষুষ করার জন্য।(Purulia)

Related Articles