Plastic Pollution: পাট সামগ্রী ব্যবহারে ঢাকের বোলে সচেতনতায় পদ্মশ্রী গোকুল ঢাকি
অজান্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাসকে দূষিত করে, মানুষের শরীরে বিপদ ডেকে আনে।
পৃথিবীজুড়ে এক আতঙ্কের নাম প্লাস্টিকদূষণ। মাটিতে, নদীতে এমনকি সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এই প্লাস্টিক। মাটি আর জল—এই দুই স্থানেই প্লাস্টিকের বিশাল রাজত্ব। বাদ ছিল বাতাস। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল, এই বাতাসেও এখন রাজত্ব শুরু করেছে প্লাস্টিক! এরা খুবই ছোট আকারের প্লাস্টিক, বাতাসে উড়ে চলা ধূলিকণা সাইজের। আকারে ছোট বলে এদের নাম মাইক্রোপ্লাস্টিক। এরা আসলে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা (Plastic Pollution)। প্লাস্টিকের পণ্য তৈরি বা রিসাইকেল করার সময় তৈরি হয় এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। এরপর এরা ভেসে বেড়ায় বাতাসে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা ফুসফুসে গেলে তা আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের কাজে নানা রকম সমস্যা তৈরি করে। এভাবে অজান্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাসকে দূষিত করে, মানুষের শরীরে বিপদ ডেকে আনে।
পরিবেশ দূষণ কমাতে তাই সারা বিশ্বে প্লাস্টিকের বদলে পাটের তৈরি সামগ্রীর ব্যাবহার বাড়ছে। পাটের সামগ্রী ব্যবহারের ওপর প্রচারেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে গোটা বিশ্বে। সমাজের বিশিষ্টজনেরা নেমেছেন প্রচারে, প্লাস্টিক মুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা নিয়ে। এই যেমন পদ্মশ্রী প্রাপক গোকুল ঢাকি। গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের ঘরে ঘরে আহ্বান জানাচ্ছেন প্লাস্টিক মুক্ত সমাজ গড়ার। প্লাস্টিক মুক্ত সমাজ গড়তে বেশি বেশি প্পাটের সামগ্রী ব্যবহারের কথা বলছেন। সেই সঙ্গে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছেন পাট চাষে। বাংলার কৃষকদের এই অতিরিক্ত পাটের অনেকটাই জোগান দিচ্ছে হায়দ্রাবাদের নুজিভীডু সিডস কোম্পানীর রাজা পাট৷ এই পাটের অপ্রত্যাশিত অধিক উৎপাদন চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে (Plastic Pollution)।
গত বছরের তুলনায় এবছর পাটের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গতবছর যেখানে প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম ছিল ৪০০০ টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। ফলে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে রাজ্যের কৃষকদের। পাট বীজ গবেষণা বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ মহম্মদ মসিউর রহমান বলেন, এই পাটের আঁশ সাধারণ পাটের তুলনায় অনেক লম্বা ও উন্নত মানের। এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশি রাজ্যের চাষিরা। মালদা জেলার তুলসীহাটা, হরিশচন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকে এই সাফল্যে অনুষ্ঠিত হয় ‘মেগা ফিল্ড ডে’।
সেখানে অংশগ্রহণকারী চাষিদের পাট চাষে উৎসাহ দিতে ২০২৫ সালে পদ্মশ্রী প্রাপ্ত ঢাকি সম্রাট গোকুল চন্দ্র দাস বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে ভারতে যে ধরনের পাট চাষ হয়, তার আঁশের গুণমান বাংলাদেশের তুলনায় কম। ফলে শিল্পক্ষেত্রে সমস্যা হয়। কিন্তু রাজা এনজে-৭০০৫ সেই সমস্যা দূর করতে সক্ষম বলে দাবি গবেষকদের। বিশিষ্টজনেরা পাট চাষে আগ্রহ বাড়াতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা বাংলার কৃষকদের লক্ষ্মী লাভে সহায়ক হবে পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণমুক্ত বাংলা গড়ার পথে কয়েক ধাপ এগোবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল (Plastic Pollution)।






