Snan Yatra: প্রভু কালাচাঁদের কথা জানেন? কেতুগ্রামের শতাব্দী প্রাচীন নৃসিংহ অবতারের অজানা কাহিনি
এমন শুভ তিথিতে জৈষ্ঠ্য পূর্ণিমায় পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার কোমরপুর গ্রামে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী শতাব্দী প্রাচীন কালাচাঁদ পুজো।
মৃণাল কান্তি ভট্টাচার্য্য: স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদুম্ন যখন জগন্নাথদেবের কাঠের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করলেন, তখন থেকে এই স্নান যাত্রার উৎসব শুরু (Snan Yatra)। স্নান যাত্রার দিনটিকে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথি বা জন্মদিন হিসেবেও পালন করা হয়। কথিত আছে, প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নাকি মাথার যন্ত্রণায় কাহিল হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব। তখন তাঁর মাথায় লাগানো হয় চন্দনের প্রলেপ। সেই প্রলেপ তুলতেই রথযাত্রার পনেরো দিন আগে স্নান করানো হয় তাঁকে। লোকবিশ্বাস আরও বলে, স্নান করার পর নাকি জ্বর আসে প্রভু জগন্নাথের। তাই পরের পনেরো দিন কাউকে মূর্তি দর্শন করতে দেওয়া হয় না।
[আরও পড়ুন: Shakta Poet: শাক্ত কবি রামপ্রসাদ সেনের জনপ্রিয়তা]
এমন শুভ তিথিতে জৈষ্ঠ্য পূর্ণিমায় পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার কোমরপুর গ্রামে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী শতাব্দী প্রাচীন কালাচাঁদ পুজো। প্রভু কালাচাঁদ এখানে বিষ্ণুদেবের নৃসিংহ অবতারে পূজিত হন। পাশাপাশি এখানে বিরাজমান থাকেন ধর্মরাজও। স্বভাবতই তাঁকে ঘিরে চলে গাজন উৎসব। কোমরপুর গ্রামে গ্রাম্যদেবতার পুজোকে কেন্দ্র করে এই শুভ তিথিতে আশেপাশের এলাকায় মানুষদের মধ্যে আনন্দ, উন্মাদনা সৃষ্টি হয় (Snan Yatra)।
গাজন শব্দটি এসেছে ‘গর্জন’ থেকে। বাংলার মঙ্গলকাব্যেও গাজনের বিশেষ উল্লেখ পাওয়া যায়। ধর্মমঙ্গল কাব্যে রানি রঞ্জাবতী ধর্মকে তুষ্ট করতে গাজন পালন করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। পুরাণেও রয়েছে গাজনের উল্লেখ।
স্নানযাত্রার উদ্দেশ্যে ভক্তের কাঁধে চেপে পদ্মপুষ্প আবৃত দোলায় চড়ে প্রভু ধর্মরাজ পাড়ি দেন। স্নান শেষে তিনি এসে দেবালয়ে পৌঁছালে শুরু হয় গাজনের মূলপর্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত ভাঁড়াল খেলা।
FB POST: https://www.facebook.com/share/v/19Aq7Qc9re/
উপোষী শরীরে প্রভুর বলে ভক্তের মধ্যে প্রবেশিত ঐশ্বরীক শক্তির জোরে ঢাকের তালে মনোহরী ও নয়নাভিরাম সে মৌলিক নৃত্যে দর্শনার্থীদের অভিভূত করে। এই অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক ভক্ত সন্ন্যাসী ব্রতে নিয়োজিত থাকেন। হাজার হাজার দর্শনার্থী ও বাবার ভক্ত কাতারে কাতারে কোমরপুর গ্রামে এসে ভিড় জমান। কালাচাঁদ বাবার ভক্তদের বিশ্বাস, স্নান যাত্রার দিন যদি প্রভুকে দর্শন করা যায়, তাহলে সকল পাপ থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব। জনমানসে বিশ্বাস, এই মন্দিরের মাটির স্পর্শে চর্মরোগ চিরতরে নির্মূল হয়। এই পূজাকে কেন্দ্র করে পশুবলি, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেতুগ্রাম এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানটি এলাকার ভক্তদের হৃদয়ে এক অনন্য অনুভূতি সঞ্চার করেছে (Snan Yatra)।






