দেশরাজ্যের খবর

‘নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করুন’, বাংলাদেশকে কড়া বার্তা ভারতের! কিন্তু কেন?

'Protect the rights of your minorities', India's strong message to Bangladesh! But why?

Truth Of Bengal: সম্প্রতি বাংলার পরিস্থিতি কিছু কারণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে  সংহিতা নিয়ে মন্তব্য করে বাংলাদেশ। এবার সেই মন্তব্যের পাল্টা কড়া বার্তা দিল ভারত। বলা হল, ‘নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দিকে মনোযোগ দিন।’

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু মুসলিমদের সুরক্ষা দিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব ভারতকে আহ্বান জানান। এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ঢাকাকে পরামর্শ দেন, “অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য” করার পরিবর্তে নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগী হতে।

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা মন্তব্য আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি একটি কৃত্রিম ও প্রতারণাপূর্ণ প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতনের সঙ্গে ভারতের ঘটনাগুলোকে তুলনা করার অপচেষ্টা চলছে, যেখানে অপরাধীরা আজও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

জয়সওয়াল আরও বলেন, “অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা এবং মিথ্যা নৈতিকতা প্রদর্শনের চেয়ে, বাংলাদেশ বরং তাদের নিজস্ব সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগ দিক।”

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ

গত বছর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। উগ্র ইসলামপন্থীদের দ্বারা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২০০টি মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং পুরোহিতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারত একাধিকবার কূটনৈতিক স্তরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যদিও বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের নির্দিষ্ট টার্গেট করে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে সাম্প্রতিক মন্দির ভাঙচুর ও ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সহিংসতা ও বাংলাদেশি উস্কানি

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলায় ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই আইন অনুযায়ী মুসলিম সম্প্রদায়ের দানকৃত ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে।

দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে, এই সহিংসতাকে উস্কে দিতে বাংলাদেশি দুষ্কৃতিকারীরা ভূমিকা রেখেছে। যার ফলে বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র দোষারোপ শুরু হয়েছে।

Related Articles