সুপারি কাটার যাঁতি সংগ্রহ নেশা, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা
Trying to keep lost traditions Betel nut cutter

The Truth of Bengal: আগে গ্রাম বাংলার মানুষের ব্যবহার করা অনেক জিনিস এখন অতীত হয়ে গিয়েছে। আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে সবকিছু। প্রয়োজন কমে আসায় মানুষ সেগুলির ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছে। তাই বাংলার বহু সামগ্রী এখন বিপুপ্তির পথে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হল সুপারি কাটার যাঁতি। এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি বাড়িতে দেখা মিলত এই যাঁতি। পান খাওয়ার আগে সুপারি কাটা হতো এই যাঁতিতে। কিন্তু, বাড়িতে পানের বাটা রেখে পান খাওয়ার রেওয়াজ উঠে গিয়েছে। এমনকী অনুষ্ঠান বাড়িতে পান খাইয়ে অপ্যায়নের রেওয়াজ বাঙালি ভুলতে বসেছে।
তাই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সুপারি কাটার যাঁতি। একটা সময় যা গ্রাম বাংলার প্রতিটি বাড়িতে দেখা যেত সেই যাঁতি সংরক্ষণ করছেন মালদার সুবীর কুমার সাহা। মালদা শহরের গ্রিনপার্ক এলাকায় বাড়ি তাঁর। তিনি পেশায় একজন গ্রন্থাগারিক। তবে তাঁর নেশা পুরনো সামগ্রী সংরক্ষণ করা। বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে নজরকাড়া ভাবে তাঁর সংগ্রহশালায় মজুত করছেন সুপারি কাটার যাঁতি। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নয়, দেশের একাধিক রাজ্য থেকে পুরোনো সুপারি কাটার যাঁতি সংরক্ষণ করে চলেছেন। দেব-দেবী মূর্তির আকৃতি থেকে ঘোড়া, মাছ সহ বিভিন্ন ডিজাইনের ও বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি যাঁতি তিনি সংগ্রহ করেছেন।
বর্তমানে তাঁর কাছে ৫০ রকমের সুপারি কাটার যাঁতি আছে। সবগুলিই পুরনো। এমনকী একশো বছরের পুরনো যাঁতি রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। বর্তমান প্রজন্ম পানের বাটা বা যাঁতি সেই ভাবে দেখতে পায় না। এই সমস্ত পুরনো যাঁতি তার সংরক্ষণ করার মূল উদ্দেশ্য হল বর্তমান প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা। পুরনো জিনিস দেখার মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রজন্ম সেই সময়ের সমাজ সম্পর্কে অনেক ধারণা লাভ করতে পারবে। এখানেই থেকে থাকতে চান না সুবীরবাবু। আগামীতে আরও বিভিন্ন ধরনের যাঁতি সংরক্ষণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।





