রাজ্যের খবর

কোমরে দড়ি, পরনে গেঞ্জি-বারমুডা! বীজপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা বনির এ কী হাল করল পুলিশ?

রেল কোয়ার্টারের ‘ডন’ এবার খাঁচায় বন্দি! বনিকে এলাকায় ঘোরাতেই ধেয়ে এল ‘চোর চোর’ স্লোগান

Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সমাজবিরোধী ও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অ্যাকশন এখন চরম তুঙ্গে। উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ সিংয়ের পর এবার একই কায়দায় বীজপুরের দাপুটে তৃণমূল যুব নেতা বনি ওরফে সুপ্রিয়কে রাস্তায় নামিয়ে শিক্ষা দিল পুলিশ। পরনে সাধারণ স্যান্ডো গেঞ্জি ও বারমুডা, কোমরে বাঁধা মোটা দড়ি, এই অবস্থাতেই বৃহস্পতিবার কাঁচরাপাড়া ও বীজপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে ঘোরানো হল একসময়ের এই প্রতাপশালী নেতাকে। বনিকে পুলিশি পাহারায় এভাবে হাঁটতে দেখে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলে ক্ষোভ উগরে দেন।

রেল কোয়ার্টারের অলিখিত ‘ডন’ থেকে যেভাবে উত্থান

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, একসময় কাঁচরাপাড়া রেলপুলিশের কোয়ার্টার চত্বর সম্পূর্ণ বনির হাতের মুঠোয় থাকত। কোয়ার্টারে কে থাকবে আর কে উচ্ছেদ হবে, তা বনিই নির্ধারণ করত। অভিযোগ, ওই কোয়ার্টারগুলিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অসামাজিক ও বেআইনি কাজকর্মের সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল সে।

বনির রাজনৈতিক উত্থান মূলত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন তৎকালীন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বনির তুমুল বচসা ও হাতাহাতির একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এরপর থেকেই শাসক দলের অন্দরে তার গুরুত্ব ও দাপট রাতারাতি বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও, বীজপুরের তৎকালীন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং বিদায়ী সাংসদ পার্থ ভৌমিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য কায়েম রেখেছিল বনি।

মন্দারমণি থেকে গ্রেফতার, অর্জুনের পর এবার শুভেন্দুর কোপ

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বনির বিরুদ্ধে থাকা পুরনো একটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মামলার ফাইল নতুন করে খোলে বীজপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতারি এড়াতে দিঘার মন্দারমণিতে লুকিয়ে ছিল সে। সেখান থেকেই তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা।

এলাকায় তদন্তের পুনর্নির্মাণের জন্য ঘোরানোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বনি অবশ্য দাবি করেছে, “যারা আসল চুরি করেছে, তারা সব এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। আমি কোনও চুরি করিনি, তাই এখনও এখানেই ছিলাম।” তবে পুলিশ তার এই দাবিতে আমল দিতে নারাজ।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে কোনও রকম অসামাজিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার পরই যেভাবে একের পর এক রাজনৈতিক তকমাধারী দুষ্কৃতীদের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় নামানো হচ্ছে, তাতে কাঁচরাপাড়া ও বীজপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Related Articles