রাজমিস্ত্রি থেকে এলাকার ত্রাস, বাদুড়িয়ার ‘কোটিপতি’ চেয়ারম্যানের উত্থান সিনেমাকেও হার মানায়
মাটি ফুঁড়ে বেরোল টাকার বস্তা, রাতভর চলল নোট গোনা! বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের গুপ্তধন দেখে চোখ কপালে ব্যাঙ্কের বাবুদের
Truth of Bengal: জীবন যে কোনও রুপোলি পর্দার সিনেমার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ হতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। একসময় যিনি সামান্য রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন, সিমেন্ট-ইট গেঁথে দিনমজুরি করে যাঁর সংসার চলত না, রাজনীতিতে পা রাখতেই তাঁর ভাগ্য বদলে গেল রকেট গতিতে। কিন্তু পাপের ঘড়া যে কোনওদিন না কোনওদিন পূর্ণ হয়, তা প্রমাণ করল পুলিশ। বুধবার রাতে বাদুড়িয়ার বাটুলডাঙার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই তৃণমূল নেতার মালিকানাধীন একটি পাটখেতের মাটি খুঁড়ে বস্তাভর্তি নগদ ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
রাজমিস্ত্রি থেকে লরি চালক, তারপর পুরসভার রাজমুকুট
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চরম আর্থিক অনটনের কারণে রাজমিস্ত্রির কাজ ছেড়ে প্রথমে অন্যের গাড়ি ও লরি চালাতে শুরু করেছিলেন দীপঙ্কর। পরে নিজের গাড়ি ভাড়ায় খাটাতে খাটাতে ২০১০ সালে হঠাৎ কংগ্রেসের টিকিটে পুরভোটে লড়ে বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান হয়ে যান। এরপর ২০১৩ সালে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন এবং ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে চলে আসেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান তুষার সিংহের মৃত্যুর পর পুনরায় বাদুড়িয়ার রাজমুকুট ওঠে দীপঙ্করের মাথায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এলাকায় একচ্ছত্র ‘ত্রাস’ হয়ে উঠেছিলেন দীপঙ্কর।
কাটমানি ও পরিচয়পত্র জালিয়াতির মারাত্মক কারবার
চেয়ারম্যানের গ্রেফতারির পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি খেতেন দীপঙ্কর। টাকা দিয়েও অনেকে ঘর পাননি। এমনকি এক স্থানীয় মহিলা বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নাম করে পরিচয়পত্র নিয়ে সম্পূর্ণ গোপনে ভুয়ো চেকবুক তৈরি করা হয়েছিল এবং তাঁর অজান্তেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন এই পুরপ্রধান। অতীতে এই নিয়ে সরব হতে গেলে পুলিশ দিয়ে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলে দাবি স্থানীয়দের।
রাতভর চলল নোট গোনা, জেরার মুখে ধৃত চেয়ারম্যান
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে দীপঙ্করের বাটুলডাঙার ওই পাটখেতে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। বেশ কিছু জায়গা খুঁড়তেই মাটির তলা থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক টাকার বস্তা। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক ও ব্যাংক কর্মীদের উপস্থিতিতে নোট গোনার মেশিন এনে গোটা রাত ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকারও বেশি। এই বিপুল টাকার উৎস কী এবং এর পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী বড় মাথার যোগ রয়েছে, তা জানতে ধৃত পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারীরা।





