রাজ্যের খবর

সিকিমে তুষার-তাণ্ডব! বরফের তলায় জওহরলাল নেহরু রোড, নাথু-লা ভ্রমণে জারি নিষেধাজ্ঞা

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ছাঙ্গু উপত্যকায় বরফ জমে যাওয়ায় পর্যটকদের গাড়িগুলিকে বর্তমানে ১৫ মাইল পর্যন্ত যেতে দেওয়া হচ্ছে।

Truth of Bengal: পাহাড় ও সমতলে অব্যাহত প্রকৃতির তাণ্ডব। বুধবার রাত থেকে পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু উপত্যকায় একটানা তুষারপাত শুরু হওয়ায় পুরু বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে জওহরলাল নেহরু রোড। রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় সিকিম প্রশাসন যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে নাথু-লা পাস ও বাবা মন্দিরসহ উঁচু এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলিও পর্যটকদের জন্য আপাতত বন্ধ। আবহাওয়া দফতর শুক্রবার ও শনিবার সিকিমের গ্যাংটক, পকিয়ং, মঙ্গন ও গেলশিং জেলায় অতিভারী বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ছাঙ্গু উপত্যকায় বরফ জমে যাওয়ায় পর্যটকদের গাড়িগুলিকে বর্তমানে ১৫ মাইল পর্যন্ত যেতে দেওয়া হচ্ছে। মার্চ মাসে সিকিমে এমন অপ্রত্যাশিত তুষারপাত পর্যটকদের উৎসাহিত করলেও, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বিপত্তি বাড়িয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে নতুন করে পর্যটন পারমিট ইস্যু করাও স্থগিত রেখেছে প্রশাসন। সিকিমের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বুধবার রাতে শিলাবৃষ্টির দাপটে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্তভাবে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলার কিছু অংশে শিলাবৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। শনিবারও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতির সম্ভাবনা নেই; ওইদিনও পাহাড়ের তিন জেলায় শিলাবৃষ্টির ভ্রুকুটি বজায় থাকবে।

উত্তরবঙ্গের সমতল জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। পাহাড়ের ধসপ্রবণ এলাকা এবং নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। আচমকা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে উত্তরবঙ্গ ও সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকরা রীতিমতো সমস্যার মুখে পড়েছেন।

Related Articles