নানুরে চেনা মাটিতে লড়াই বিধানচন্দ্র মাজির কাজের খতিয়ান তুলে ধরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আস্থা তৃণমূলের
তৃণমূল কংগ্রেস আবারও প্রার্থী করেছে বর্তমান বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাজিকে, যিনি ২০২১ সালে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করেছিলেন
সৌতিক চক্রবর্তী, নানুর: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের নানুর কেন্দ্র ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও প্রার্থী করেছে বর্তমান বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাজিকে, যিনি ২০২১ সালে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করেছিলেন। এবার তাঁর লড়াই বিজেপি প্রার্থী খোকন দাসের বিরুদ্ধে। একদিকে বর্তমান বিধায়ক হিসেবে গত পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে পুনরায় মানুষের আস্থা অর্জনের লড়াই—এই দুইয়ের মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে এবারের নির্বাচনী সমীকরণ। তৃণমূল শিবিরের দাবি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই বিধানচন্দ্র মাজিকে এগিয়ে রাখছে। এই প্রেক্ষাপটে বিধানচন্দ্র মাজির সঙ্গে কথা বলে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক—
প্রশ্ন: ২০২১ সালে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
উত্তর: মানুষের আশীর্বাদে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এই সময়ে এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। মানুষের সমস্যা বুঝে তার সমাধান করাই ছিল আমার প্রধান লক্ষ্য।
প্রশ্ন: আবারও প্রার্থী হিসেবে ময়দানে—কতটা আত্মবিশ্বাসী?
উত্তর: আত্মবিশ্বাস আছে, কারণ মানুষ আমার কাজ দেখেছেন। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সেই সম্পর্কই আমাকে শক্তি দিচ্ছে।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে আপনার প্রচারের মূল ভিত্তি কী?
উত্তর: উন্নয়নই আমাদের মূল ভিত্তি। গত পাঁচ বছরে যে কাজ হয়েছে, সেটাই মানুষের সামনে তুলে ধরছি। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিইনি, বাস্তবে কাজ করেছি।
প্রশ্ন: জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
উত্তর: আমি অত্যন্ত আশাবাদী। মানুষের যে ভালোবাসা ও সমর্থন পাচ্ছি, তাতে আমি আত্মবিশ্বাসী যে মানুষ আবারও আমাকে সুযোগ দেবেন। গত পাঁচ বছরের কাজই আমার সবচেয়ে বড় ভরসা।
প্রশ্ন: বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস পরিবর্তনের কথা বলছেন—আপনার প্রতিক্রিয়া?
উত্তর: পরিবর্তন তখনই দরকার হয়, যখন কাজ হয় না। এখানে উন্নয়ন হয়েছে, মানুষ তার সুবিধা পেয়েছেন। তাই আমি মনে করি মানুষ বাস্তব কাজের উপরই ভরসা রাখবেন।
প্রশ্ন: নতুন করে মানুষের আস্থা অর্জন করা কতটা কঠিন?
উত্তর: মানুষের আস্থা অর্জন সবসময়ই বড় দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক রয়েছে এবং কাজের অভিজ্ঞতা—সেটাই আমাকে সাহায্য করবে।
প্রশ্ন: বিরোধীদের প্রচারকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: গণতন্ত্রে সবাই নিজের মতো করে প্রচার করবে, এটা স্বাভাবিক। তবে আমি বিশ্বাস করি, মানুষ বাস্তব কাজের উপরই গুরুত্ব দেবেন।
প্রশ্ন: গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
উত্তর: গ্রামীণ রাস্তা, কৃষি পরিকাঠামো, সেচ ব্যবস্থা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করা—এই দিকগুলোতেই আমরা বেশি জোর দিতে চাই। পাশাপাশি হাসপাতাল গুলোতে জোর দিতে চাই । তবে সবথেকে যেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেতার পর প্রথম কাজ কীর্নাহার হাসপাতালের উন্নয়ন করা, ঢেলে সাজানো এটাই এখন আমার লক্ষ্য।
প্রশ্ন: মহিলাদের জন্য বিশেষ কী উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে?
উত্তর: মহিলাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।
প্রশ্ন: যুবকদের জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: যুবকদের কর্মসংস্থান, স্বনির্ভর প্রকল্প, ছোট শিল্প—এই সব ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করেছি। আগামী দিনে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রশ্ন: রাজ্যের প্রকল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় কতটা সফল হয়েছেন?
উত্তর: আমরা চেষ্টা করেছি যাতে প্রতিটি মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান। বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর সেখানেই আমরা সফল।
প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনী প্রচারে মানুষের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?
উত্তর: খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তাদের সমর্থন ও ভালোবাসা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করছে।
প্রশ্ন: ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন?
উত্তর: প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীকেই সম্মান করি। তবে শেষ কথা বলবেন মানুষই।
প্রশ্ন: ভোটের দিনকে সামনে রেখে আপনার প্রস্তুতি কতটা সম্পূর্ণ?
উত্তর: আমাদের সংগঠন মজবুত এবং আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। বুথ স্তর থেকে শুরু করে সব জায়গায় কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
প্রশ্ন: মানুষের কাছে আপনার বার্তা কী?
উত্তর: আমি সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম এবং থাকব। উন্নয়নের যে কাজ শুরু হয়েছে, সেটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। মানুষের আশীর্বাদই আমার শক্তি।
প্রশ্ন: বিরোধীদের প্রচারকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: গণতন্ত্রে সবাই নিজের মতো করে প্রচার করবে, এটা স্বাভাবিক। তবে আমি বিশ্বাস করি, মানুষ বাস্তব কাজের উপরই গুরুত্ব দেবেন।
.
নানুর বিধানসভায় এবারের লড়াই স্পষ্ট—একদিকে অভিজ্ঞ বর্তমান বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাজি, অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী খোকন দাসের চ্যালেঞ্জ।
তবে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের কাজ এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগই এই লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর ভোটের ফলাফলের দিকে—মানুষ কি আবারও অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রাখবেন, নাকি পরিবর্তনের ডাককে সমর্থন করবেন, সেটাই ঠিক করবে নানুরের আগামী রাজনৈতিক দিশা।
তথ্য
নানুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ২০২১
বিধান চন্দ্র মাঝি
জয়ী (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস )
মোট ভোট: ১১২,১১৬
জয়ের ব্যবধান: ৬,৬৭০
তারক সাহা (ভারতীয় জনতা পার্টি )
ভোট : ১০৫,৪৪৬
শ্যামলী প্রধান
( কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া) (মার্কসবাদী)
ভোট ১২,৮৭৮






