অবশেষে পুরীর হোটেল থেকে গ্রেফতার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ, নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতায়
ওড়িশার পুরীর একটি নামী হোটেল থেকে তাঁকে যৌথভাবে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ।
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। ওড়িশার পুরীর একটি নামী হোটেল থেকে তাঁকে যৌথভাবে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। এই আটকের পর তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলকাতায় নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু করেছে পুলিশ বাহিনী। জনৈক ব্যক্তিকে হুমকির অভিযোগে বিষ্ণুপুরের এই বিধায়কের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই গত ১৪ মে পৈলানে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিশ আসার আগাম খবর পেয়েই তিনি বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেন। এর পর থেকেই তিনি ক্রমাগত নিজের আস্তানা বদলে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন এবং পুলিশও তাঁর খোঁজে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল।
দিন দুয়েক আগে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, ওড়িশার পুরীর ‘ব্লু লিলি’ হোটেলে আত্মগোপন করে রয়েছেন দিলীপ মণ্ডল। সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশের একটি যৌথ দল পুরীর ওই হোটেলে আকস্মিক হানা দেয়। হোটেলের রেজিস্টার ও বুকিং খতিয়ে দেখে বিধায়কের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর, সরাসরি তাঁর নির্দিষ্ট ঘরে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশ। বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল পলাতক থাকাকালীনই তাঁর পুত্র অর্ঘ্য মণ্ডলকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অর্ঘ্যর বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক অশান্তি পাকানোর অভিযোগ উঠেছিল এবং গ্রেফতারির সময় তাঁর কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। এই একই অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরবর্তীতে আরও চার জনকে গ্রেফতার করেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের আধিকারিকেরা।
পুলিশের কাছে নিজের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ দায়ের হতেই আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার আশায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দিলীপ মণ্ডল। গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের কাছে সুরক্ষা চাওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক এফআইআর (FIR) খারিজ করার আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আইনি লড়াইয়ের ফয়সালা হওয়ার আগেই পুরী থেকে তাঁকে আটক করল পুলিশ। পৈলান এলাকায় বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের দু’টি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যেখানে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ যৌথ তল্লাশি চালিয়েছিল। এর মধ্যে একটি বাড়ি বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে, যার জাঁকজমক ও অঙ্গনসজ্জা সাধারণ কোনও রিসর্টের চেয়ে কম নয়। বাড়ি সংলগ্ন বিশাল বাগানে রয়েছে নিজস্ব সুইমিং পুল, দোলনা এবং হরেক রকমের শৌখিন মূর্তি। একজন জনপ্রতিনিধির এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রাসাদোপম বাড়ি নিয়ে স্থানীয় মহলে দীর্ঘদিন ধরেই নানা চর্চা ছিল।




