Jalpaiguri: শিক্ষাঙ্গনে চরম হেনস্থা! অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি না নেওয়ায় প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবোস করালেন পুরপ্রধান
প্রধান শিক্ষিকা এতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর সংঘাত সৃষ্টি হয়।
Truth of Bengal: জলপাইগুড়ি পুরসভার বর্তমান পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবোস করানো এবং সহ-প্রধান শিক্ষিকাকে তাঁর পা ধরতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জানুয়ারি, কিন্তু দশ মাস পর সম্প্রতি এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সুনীতিবালা সদর গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস জানান, তাঁদের স্কুলে বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৬৪ জন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৩৯ জন। এই পরিস্থিতিতে এমনিতেই ক্লাস নিতে সমস্যা হয়। এর মধ্যেই স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা বর্তমান পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় পঞ্চম শ্রেণিতে আরও ১২৫ জন ছাত্রীকে ভর্তি নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। প্রধান শিক্ষিকা এতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর সংঘাত সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ, এই সংঘাতের জেরেই গত ৪ জানুয়ারি পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় হঠাৎ স্কুলে আসেন। সেখানে তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে হুমকি দেন এবং তাঁকে কান ধরে ওঠবোস করতে বাধ্য করেন। এমনকি, সহ-প্রধান শিক্ষিকা অরুণিমা মৈত্রকেও তাঁর পা ধরতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। সহ-প্রধান শিক্ষিকা জানান, সেই সময় নিতান্ত বাধ্য হয়েই তাঁরা এই কাজ করেছিলেন। প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস জানান, ঘটনার দিনই অফিস রুমের সিসিটিভি ফুটেজ স্কুল শিক্ষাদপ্তর-সহ একাধিক জায়গায় পাঠিয়ে বিচারের আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তিনি এখন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা তলানিতে তা সর্বজনবিদিত, বিশেষত কর্মরত মহিলারা কর্মক্ষেত্রে হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন, অনেকাংশে তৃণমূল নেতাদের দ্বারা, সেটাও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে অজানা নয়।
যেমন এই ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে, জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর গার্লস… pic.twitter.com/SGcRxzRRI3— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) November 10, 2025
এদিকে, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আগেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘X’ হ্যান্ডেলে এই ছবি পোস্ট করে দেন। ছবি ভাইরাল হওয়ায় প্রধান শিক্ষিকা অস্বস্তিতে পড়েছেন। তাঁর দাবি, এই ছবি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ছাড়া আর কোথাও দেওয়া হয়নি। কীভাবে তা বিরোধী দলনেতার কাছে পৌঁছাল, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
অন্যদিকে, পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের সময়েই ভিডিওটি ভাইরাল করার কারণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁর বক্তব্য, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।






