রাজ্যের খবর

একদিনে সম্পূর্ণ তান্ত্রিক রীতিতে জগদ্ধাত্রী পুজো, উৎসবের মধ্যে পরিবার ও গ্রাম একসঙ্গে

জানা গেছে, ঘটক পরিবারের পাশাপাশি চক্রবর্তী পরিবারও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত।

Truth Of Bengal: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দুই নম্বর ব্লকের বান্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আগরাপাড়া গ্রামে প্রায় চার পুরুষ ধরে একই আচার-অনুষ্ঠান মেনে পালিত হচ্ছে ঘটক পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো। স্থানীয়ভাবে এই পুজো এখন এক ঐতিহ্য, যা আজও তান্ত্রিক প্রথা অনুসারে সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুনঃ ডার্বি জিততে গেলে পেনিট্রেটিভ জোনে সুযোগ তৈরি করে তা কাজে লাগাতে হবে

জানা গেছে, ঘটক পরিবারের পাশাপাশি চক্রবর্তী পরিবারও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। বহু বছর আগে ঘট স্থাপন করে পুজো শুরু হয়েছিল। পরে পরিবারের এক সদস্যের স্বপ্নদর্শনের পর স্থায়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে মা জগদ্ধাত্রীর পুজো শুরু হয়। সেই থেকে আজও একই নিয়মে, একদিনে সম্পূর্ণ হয় এই বিশেষ পুজো।

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল—মায়ের প্রতিমা গঠন থেকে ভোগ রান্না, সাজসজ্জা ও পুজো-অর্চনা—সব কিছুই পরিবারের সদস্যদের হাতেই সম্পন্ন হয়। বাইরের কাউকে পুজোর কোনও কাজে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। পরিবারের নারী সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন ভোগ রান্না, আলপনা ও সাজসজ্জায়; অন্যদিকে পুরুষ সদস্যরা সামলান মন্দিরের পুজোর আচার ও অনুষ্ঠান।

চিত্র: নিজস্ব

নবমীর দিনেই এই পুজো সম্পূর্ণ হয়। সকালে সপ্তমীর তিথির পুজো দিয়ে শুরু হয় পুজোর আনুষ্ঠানিকতা। দুপুরের পর অষ্টমীর পুজো সম্পন্ন হয়, আর বিকেল থেকে শুরু হয় নবমীর সন্ধিক্ষণ। একদিনেই এই তিনটি পর্বের মাধ্যমে তান্ত্রিক রীতিতে শেষ হয় জগদ্ধাত্রী পুজো।

দিনভর পুজোর কাজে ব্যস্ত থাকেন পরিবারের প্রত্যেক সদস্য—ছোট-বড় সবাই। গ্রামের মানুষও এই আনন্দে অংশ নেন। পুজো শেষে মা জগদ্ধাত্রীর অন্নভোগ সবাই একসঙ্গে গ্রহণ করেন। এভাবেই চার পুরুষ ধরে ঘটক পরিবারের এই জগদ্ধাত্রী পুজো আগরাপাড়ার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পারিবারিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Related Articles