রাজ্যের খবর

কালীগঞ্জে নিস্পৃহ বিরোধীরা রণকৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল

Indifferent opponents are strategizing against Trinamool in Kaliganj

সুব্রত দত্ত: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরে। কার্যত, এক বছরের মধ্যেই বঙ্গে বিধানসভা ভোটের বাদ্যি বেজে যাবে। সাংবিধানিক নিয়ম বলে এক বছরেরও কম সময়ের জন্য নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা পেতে চলেছে নতুন বিধায়ক। পূর্বতন বিধায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ (লাল)- এর আকষ্মিক মৃত্যুর কারণে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বিধানসভা কেন্দ্রে।

নির্বাচন কমিশন এই উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আর সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রণকৌশল সাজাতে আসরে নেমেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এই উপনির্বাচন নিয়ে একেবারেই নিস্পৃহ। উল্টে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছে এই অল্প সময়ের জন্য নির্বাচন না করার জন্য। আর এই নিয়ে বিজেপিকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস।

রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী তথা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য বর্ণালী দে রায় বলেন, ‘বিজেপি হারবে নিশ্চিত। তাই নির্বাচনের সম্মুখীন হতে ভয় পাচ্ছে।’ নদিয়া জেলার তৃণমূলের এই মহিলানেত্রী আরও বলেন, ‘বছরের যে কোন সময় নির্বাচন হোক না কেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রস্তুত আছে। বিজেপি বাংলায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে নানা ভাবে। বাংলাকে বদনাম করছে।’ অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় তার মত স্পষ্ট করেছেন। ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার পরিস্থিতিকে সামনে রেখে, আমি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি লিখিত আবেদন পত্র জমা দিয়েছি। তাতে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছি।’
তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বে রয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

তাঁর নেতৃত্বে কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। নির্বাচনের রণকৌশল ঠিক করছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের হয়ে এই উপনির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? তা নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেনি জেলা তৃণমূল। রাজ্য নেতৃত্ব প্রার্থী হিসাবে যাঁর নাম ঘোষণা করবে তাঁর সমর্থনেই জোরদার প্রচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা।

অন্যদিকে এই উপনির্বাচন নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বিরোধী শিবিরে। বিজেপি কিংবা বাম-কংগ্রেস, কোন পক্ষকেই তেমন নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়নি। কালীগঞ্জ এলাকায় বাম-কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ক একটা সময় ছিল যথেষ্টই। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় বাম ও কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই জেলায় দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচন হয়। শান্তিপুর ও রানাঘাট দক্ষিণ। দুটি কেন্দ্রই বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। কালীগঞ্জ এমনিতেই তৃণমূলের দখলে ছিল। তৃণমূল নেতৃত্ব আশাবাদী, উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থীই বিজয়ী হবে।

Related Articles