রাজ্যের খবর

গঙ্গারামপুরে ফের ‘হ্যাটট্রিক’ লড়াই, দিনভর ছুটছেন গৌতম—ভোটযুদ্ধের আগে কেমন কাটছে প্রার্থীর দিনযাপন

গঙ্গারামপুর বিধানসভায় তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দাস

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: ২০১৬, ২০২১ পেরিয়ে আবার ২০২৬। গঙ্গারামপুর বিধানসভায় তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দাস। ২০২১-এ অল্প ব্যবধানে হারের ক্ষত এখনও তাজা। সেই অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করেই এ বার জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি। সকাল থেকে রাত—প্রায় টানা প্রচারেই কাটছে দিন। এলাকা চেনা, পুরনো সংগঠন এবং অনুগামীদের উপর ভরসা রেখেই এগোচ্ছেন তিনি।

এক সময় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি থাকার সুবাদে সংগঠনের ভিত মজবুত। ফলে প্রচারে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। অন্যদিকে বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় এলাকা থেকে কিছুটা দূরে থাকেন—এই বিষয়টিও ভোটারদের ভাবাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। গৌতম নিজে গঙ্গারামপুরের কাছেই থাকায় ‘সবসময় পাশে পাওয়া যাবে’—এই বার্তাও তুলে ধরছেন তিনি।

২০২১-এর ভোটের পরিসংখ্যানও বলছে লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি ছিল। সে বার গৌতম দাস পান ৮৪,১৩২ ভোট (৪৪.৪০%), আর বিজেপির সত্যেন্দ্রনাথ রায় পান ৮৮,৭২৪ ভোট (৪৬.৮৩%)। মাত্র ৪,৫৯২ ভোটে হারতে হয়েছিল তাঁকে। তাই এ বার শুরু থেকেই বাড়তি জোর প্রচারে।

সকালের শুরু কীভাবে?

গৌতম দাস জানালেন, আলাদা কোনও ডায়েট নয়। প্রতিদিনের মতোই সকাল শুরু হয় ব্ল্যাক কফি বা লাল চা দিয়ে। সঙ্গে থাকে হালকা চিড়ে ভাজা বা মুড়ি।

প্রচারে বেরিয়ে প্রথম কাজ?

‘মানুষই আমার কাছে দেবতা’—বলছেন প্রার্থী। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি ভোট চাওয়াই প্রথম কাজ। পথে মন্দির, মসজিদ বা গির্জা পড়লে সেখানেও ঢুঁ মারেন, প্রার্থনা করেন জয়ের আশীর্বাদ।

প্রচারের ফাঁকে কী করেন?

কোথাও সংগঠনে খামতি চোখে পড়লেই সেখানেই ছোট বৈঠক। কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই এখন অন্যতম লক্ষ্য। ভোটযুদ্ধের সৈনিকদের চাঙা রাখতেই এই উদ্যোগ।

দুপুরের খাবার?

প্রচারের মাঝে বেশিরভাগ সময় নিরামিষই ভরসা। কখনও কর্মীদের বাড়িতে, কখনও সুযোগ পেলে নিজের বাড়িতে। তবে বেশিরভাগ দিনই যা পান তাই হালকা খেয়ে নেন। শরীর ঠিক রাখতে ইলেকট্রোরাল মেশানো জলের উপর বাড়তি জোর।

দিনে কতক্ষণ প্রচার?

সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা—প্রায় টানা প্রচার। মাঝেমধ্যে সময় পেলেই অল্প বিশ্রাম।

আড্ডা?

চায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতেই স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। সেখানেও চলছে ভোটের আলাপ।

প্রতিদ্বন্দ্বী কে?

গৌতমের কথায়, ‘যাঁরা দাঁড়িয়েছেন, সকলেই প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে বিজেপি ধর্মীয় আবেগ তোলার চেষ্টা করছে, আমরা সেটা ভাঙতে পারব।’

পুরনো কাজ, নতুন প্রতিশ্রুতি

বিধায়ক থাকাকালীন গ্রামীণ রাস্তা ও সেতু নির্মাণে জোর দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। তবে পঞ্চায়েত, লোকসভা নির্বাচন ও লকডাউনের কারণে কিছু পরিকল্পনা অপূর্ণ থেকে যায়। এ বার জিতলে সেই কাজগুলোই বাস্তবায়নের লক্ষ্য।

পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে গঙ্গারামপুর ফ্লাইওভার, স্টেডিয়াম উন্নয়ন, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিকাঠামো বাড়ানো এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা।

তপনের জল সমস্যা—সমাধান কী?

এই ইস্যুতে সরাসরি বিজেপি বিধায়ককে আক্রমণ করেছেন গৌতম। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জিতলে প্রথম কাজই হবে পানীয় জলের সঙ্কট দূর করা—রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস।

সন্ধ্যা ও রাতের রুটিন

সন্ধ্যায় মুড়ি-বাদামেই সেরে ফেলছেন টিফিন। রাতে তিনটে রুটি বা অল্প ভাত।

দিনশেষে পরিকল্পনা?

প্রচারের শেষে নির্বাচনী কার্যালয়ে সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠক। পরের দিনের রূপরেখা ঠিক করেই দিন শেষ।

সব মিলিয়ে, গৌতম দাস এখন একসঙ্গে দু’টি লড়াই লড়ছেন—একদিকে মানুষের কাছে পৌঁছনোর, অন্যদিকে সংগঠনকে চাঙা রাখার। মাঠে নেমে তিনি যেন নিজের অস্ত্র শান দিচ্ছেন প্রতিদিন।

এখন দেখার, এই ভোটযুদ্ধে তিনি কি মহাভারতের অর্জুনের মতো লক্ষ্যভেদ করবেন, না কি অভিমন্যুর মতো চক্রব্যূহে আটকে গিয়ে লড়াই থামবে মাঝপথেই?

Related Articles