রাজ্যের খবর

টিকিট দেয়নি তৃণমূল! ফরাক্কায় খেলা ঘোরাতে কংগ্রেসের প্রতীকে মনোনয়ন মনিরুলের

তৃণমূল কংগ্রেস এবার ফরাক্কা কেন্দ্রে আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল।

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভাবনীয় নাটকীয় মোড় এল। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার জঙ্গিপুর এসডিও অফিসে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। তবে চমকপ্রদ বিষয় হল, মনিরুল এবার কংগ্রেসের ডিসিআর (DCR) কেটে প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে নামলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে ফরাক্কার নির্বাচনী লড়াই এখন ত্রিমুখী উত্তেজনার কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস এবার ফরাক্কা কেন্দ্রে আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হলেও দল পিছু হঠেনি। শেষ পর্যন্ত অনুগামীদের চাপে এবং জনমতের দোহাই দিয়ে বিদ্রোহের পথই বেছে নিলেন তিনি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মনিরুল স্পষ্ট জানান, ‘‘তৃণমূল আমাকে টিকিট দেয়নি, কিন্তু ফরাক্কার হাজার হাজার মানুষ আমাকে ফোন করে অনুরোধ করেছেন নির্দল হিসেবে দাঁড়াতে। আমি তাদের ভালবাসার টানে ঘরে বসে থাকতে পারিনি।’’

এদিন মনিরুল ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, কংগ্রেসের বর্তমান প্রার্থীর নাম ‘ডিলিট’ হয়ে থাকায় তিনি ওই দলের হয়েই লড়াই করতে ইচ্ছুক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি কংগ্রেসের নেতৃত্বের কাছে প্রার্থী হওয়ার আবেদন জানিয়েছি। কংগ্রেস দল যদি সুযোগ না দেয়, তবে নির্দল হিসেবেই আমার লড়াই চলবে। ফরাক্কার মানুষের স্বার্থেই আমি লড়ছি।’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, মনিরুলের এই পদক্ষেপ আসলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরানোর কৌশল।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। আমার মূল স্লোগানই হল- ‘আগে ভোটার, পরে ভোট’। ভোটার তালিকা স্বচ্ছ না হলে নির্বাচনের কোনো মানে হয় না।’’

তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের এই বিদ্রোহ ফরাক্কায় শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। একদিকে দলের অফিসিয়াল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম, অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ মনিরুল- এই লড়াইয়ের ফায়দা বিজেপি তুলতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles