দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতির করিডর বাংলায়, প্রকাশ কেন্দ্রের রিপোর্টে
Elephant Corridor in West Bengal

The Truth of Bengal, Mou Basu: সব রাজ্যকে হারিয়ে ফের শীর্ষে বাংলাই। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলিফ্যান্ট করিডর অর্থাৎ বন্য হাতির চলাচলের উপযুক্ত পথ রয়েছে বাংলাতেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক রিপোর্টেই একথা স্বীকার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশের ১৫টি রাজ্যে বিস্তৃত রয়েছে ১৫০টি এলিফ্যান্ট করিডর। এরমধ্যে ২৬টি এলিফ্যান্ট করিডর আছে বাংলায়।
২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের “এলিফ্যান্ট টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট (গজ রিপোর্ট)”-এ বলা হয়েছিল দেশে এলিফ্যান্ট করিডর আছে ৮৮টি। সেই হিসাবে সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টেই প্রকাশ দেশে হাতি চলাচলের উপযুক্ত পথ বেড়েছে। ” Elephant Corridors of India” শীর্ষক কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে যে ১৫০টি জায়গা হাতিদের চলাচল বা এলিফ্যান্ট করিডর হিসাবে চিহ্নিত আছে তার ১৭% রয়েছে এই বাংলায়। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৫০টি এলিফ্যান্ট করিডরের মধ্যে ৫৯টি করিডরে হাতিদের চলাচলের পরিমাণ বেড়েছে। ২৯টি করিডরে হাতিদের চলাচল ঠিক আছে। ২৯টি এলিফ্যান্ট করিডরে হাতিদের চলাচল কমে গেছে। ১৫টি করিডরকে হাতিদের চলাচলের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে। ১৮টি করিডর সম্পর্কে উপযুক্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এক জঙ্গল যেখানে উপযুক্ত থাকা ও খাবারের বন্দোবস্ত আছে সেখান থেকে যে পথ ধরে হাতিরা অন্য জঙ্গলে যায় ও পুরনো নিজের জঙ্গলে ফিরে আসে তাকেই উপযুক্ত এলিফ্যান্ট করিডর বলে। কিন্তু খাদ্যে সন্ধানে বন্য হাতিরা যদি জঙ্গল ছেড়ে জনবসতিতে চলে আসে আর ফিরে না যায় তাকে কিন্তু এলিফ্যান্ট করিডর বলা হয় না। তাই পরিবেশ রক্ষায় এলিফ্যান্ট করিডর রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে সমীক্ষা অনুযায়ী গোটা বিশ্বে যত হাতি ছিল তার ৬০% বা ৩০ হাজারের মতো ছিল ভারতে। ভারতের পূর্ব-মধ্য অঞ্চলে রয়েছে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলিফ্যান্ট করিডর। সংখ্যাটি হল ৫২। উত্তরপূর্ব ভারতে ৪৮টি, দক্ষিণ ভারতে ৩২টি এলিফ্যান্ট করিডর আছে। সবচেয়ে কম ১৮টি এলিফ্যান্ট করিডর আছে উত্তর ভারতে। দেশে যে ১৫০টি এলিফ্যান্ট করিডর আছে এরমধ্যে ১২৬টি রয়েছে রাজ্যের মধ্যে আর একাধিক রাজ্যের মধ্যে বিস্তৃত রয়েছে ১৯টি এলিফ্যান্ট করিডর। নেপাল এবং ভারতের মধ্যেও এলিফ্যান্ট করিডর আছে। এর বেশির ভাগ রয়েছে উত্তর প্রদেশে।
কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্যের বন দফতরের সঙ্গে যৌথ ভাবে এলিফ্যান্ট করিডর নিয়ে সমীক্ষা চালায়। প্রযুক্তিগত সাহায্য করে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে ছত্তিসগড় লাগোয়া মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চল, কর্নাটক লাগোয়া দক্ষিণ মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ ও উত্তর অন্ধ্র প্রদেশে হাতিদের চলাচলের উপযুক্ত এলাকা আরো বেশি বিস্তৃত হয়েছে। আবার উত্তর পূর্বের বহু রাজ্য কম সংখ্যক হাতি রয়েছে তাই ওইসব জায়গায় হাতির চলাচলের পথ কম।






