গঙ্গার গ্রাসে তছনছ ভূতনি! মালদহে পৌঁছে ২৪২ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা শুভেন্দুর!
বাড়ি পুনর্নির্মাণে মিলবে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা! পুজোয় ত্রাতা হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী
অভিষেক দাস, মালদা: যেদিকে চোখ যায়, শুধুই রাক্ষুসে গঙ্গার উত্তাল জলরাশি। চাষের জমি থেকে মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়, সবকিছু গিলে খেয়েছে নদী। এক কাপড়ে সর্বস্ব হারিয়ে ত্রাণশিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন হাজার হাজার পরিবার। একমুঠো খাবারের আশায় ছোট ডিঙি বেয়ে বানভাসি এলাকা পার করছেন শিশু থেকে বৃদ্ধরা। পুজোর আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকলেও উৎসবের রঙ স্পর্শ করেনি মালদহের ভূতনি, মানিকচক কিংবা রতুয়ার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের। এই কঠিন মুহূর্তে বানের জলে প্লাবিত দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাতে স্বয়ং ‘ত্রাতা’ হয়ে এলাকায় হাজির হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্যাকবলিত এলাকার জন্য একলপ্তে ২৪২ কোটি টাকার বিশেষ ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করলেন তিনি।
এদিন মানিকচকে মূল প্রশাসনিক কর্মসূচিতে পৌঁছানোর আগে হেলিকপ্টারে চেপে আকাশপথে গোটা পরিস্থিতির সার্বিক রূপরেখা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। টানা ২০ মিনিটের আকাশপথে পরিদর্শনের সময় বন্যা ও নদীর ভয়াল রূপের দৃশ্য নিজের মোবাইল ক্যামেরায় লেন্সবন্দি করেন শুভেন্দু। পরবর্তীতে দুর্গতদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “গঙ্গার ভাঙন ও প্লাবনের এই চিরন্তন যন্ত্রণা থেকে আপনাদের স্থায়ী মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে এসেছি। প্রশাসনিক স্তরে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
জেলাশাসক ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে নজিরবিহীন আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “মালদহে বন্যায় পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ২৪ হাজার ৫৯৫টি বাড়ি পুনরায় তৈরির জন্য পরিবার পিছু ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে ৯০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে রাজ্য সরকার।”
উৎসবের মরশুমে যাতে কেউ অনাহারে বা কষ্টে না থাকেন, তার জন্য বিশেষ ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক পর্যায় ৫ হাজার পরিবারকে জামাকাপড়, মশারি ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ২১টি সরকারি ত্রাণশিবির থেকে প্রতি ৫ দিন অন্তর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছানোর পাশাপাশি ২৫টি কমিউনিটি কিচেন থেকে নিখরচায় দুবেলা রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুদের জন্য খাদ্যের বন্দোবস্ত করেছে শুভেন্দু সরকার।






