রাজ্যের খবর

নিজের বিয়ে আটকাতে থানায় নাবালিকা, বীরাঙ্গনার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন থানার আইসি

শেষমেশ নিজের বিয়ে আটকাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দি থেকে বাসে চেপে কান্দি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয় সে। সেখান থেকে সোজা কান্দি থানায় গিয়ে আইসি মৃণাল সিনহার কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়।

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ‘আমি বিয়ে করতে চাই না। আমি পড়াশোনা করতে চাই।‘ নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে থানায় হাজির হল এক নাবালিকা স্কুলছাত্রী। তার সাহসী সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত আটকাল বাল্যবিবাহ। শুধু তাই নয়, ছাত্রীটির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা। ঘটনাটি  মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানা এলাকার একটি গ্রামের। দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী অভিযোগ করে জানায়, তার বাবা জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইছেন। একাধিকবার আপত্তি জানালেও কোনও লাভ হয়নি। শেষমেশ নিজের বিয়ে আটকাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দি থেকে বাসে চেপে কান্দি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয় সে। সেখান থেকে সোজা কান্দি থানায় গিয়ে আইসি মৃণাল সিনহার কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়।

নাবালিকার বক্তব্য শুনে আইসি তাকে আশ্বস্ত করেন  আইন অনুযায়ী কারও ক্ষমতা নেই নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার। এরপর ছাত্রীটির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। পাশাপাশি খড়গ্রাম থানার চন্দ্রসিংহ বাটিতে থাকা মেয়েটির মামার বাড়িতেও বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে নাবালিকার বাবা থানায় না এলেও তার মামা থানায় হাজির হন। তিনি পুলিশের কাছে মুচলেখা দিয়ে ভাগ্নিকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান।এই দিনই কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা নাবালিকার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পাশাপাশি মামাকে ছাত্রীটির থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করলে মামা তাতে সম্মতি জানান এবং দায়িত্ব নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা ছাত্রীটি বড়ঞা থানা এলাকার বাসিন্দা। এক বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। দুই বোনের মধ্যে সে বড়। বাবার সঙ্গেই থাকত। সে আন্দি লালচাঁদ ছাজের হাই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার ছোট বোন বর্তমানে কলকাতায় মাসির বাড়িতে থাকে।নাবালিকা ছাত্রী জানায়, “বাবা পাশের গ্রামের ৩৫ বছরের এক যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করেছিলেন। শনিবার বিয়ের দিন ঠিক ছিল। আমি বারবার বলেছি, আমি বিয়ে করতে চাই না। পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু বাবা কোনও কথাই শোনেননি। তাই বাধ্য হয়ে থানায় এসে সাহায্য চেয়েছি। পুলিশ কাকু আমার দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি খুব খুশি। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। এই ঘটনায় ফের একবার বাল্যবিবাহ রোধে পুলিশের মানবিক ও সক্রিয় ভূমিকার দৃষ্টান্ত তৈরি হল বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related Articles