“মমতা মানুষ নয়, ও ডাইনি!”, ছেলের ছবি বুকে মায়ের আর্তনাদ, পরিবর্তনের বাংলায় বিচারের আশায় দাড়িভিট
২০১৮-র সেই ‘কালো অধ্যায়’! ৮ বছর পর নতুন সরকারের কাছে ন্যায়ের আশায় দাড়িভিটের শহিদ পরিবার
Truth of Bengal: দীর্ঘ আট বছরের যন্ত্রণা আর অপমানের বাঁধ ভাঙল যেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দাড়িভিট হাইস্কুলের সেই দুই শহিদ, তাপস বর্মণ এবং রাজেশ সরকারের পরিবারের অন্দরে এখন কান্নার রোল, কিন্তু সেই কান্নায় মিশে আছে বহু প্রতীক্ষিত বিচারের আশা। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে তাপসের মা যখন চিৎকার করে বলছেন, “আর কোনও মা যেন সন্তান হারা না হয়। মমতা মানুষ না, ও ডাইনি”, তখন তাঁর চোখের জলে ফুটে উঠছে গত আট বছরের এক চরম ঘৃণ্য অভিজ্ঞতার ছবি। একইভাবে রাজেশ সরকারের মা-বাবার কণ্ঠেও শোনা গেল সেই একই ক্ষোভ।
২০১৮-র সেই মর্মান্তিক দিন
ঘটনাটি ছিল ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। দাড়িভিট হাই স্কুলে “উর্দু নয়, বাংলা শিক্ষক চাই” এই দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। অভিযোগ, সেই ছাত্র আন্দোলন দমন করতে গিয়েই পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মণের শরীর। অভিযোগ, অকাতরে প্রাণ গিয়েছিল দুই ছাত্রের। এরপর থেকেই ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই শুরু করে পরিবার। প্রথমে সিবিআই তদন্তের দাবি, পরে ঘটনার তদন্তভার যায় এনআইএ-র (NIA) হাতে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, তৎকালীন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জেরে তদন্তের গতি বারবার থমকে গিয়েছে। বারবার আইনি লড়াইয়ে হার মেনেছেন তাঁরা, তবুও লড়াই ছাড়েননি।
পালাবদলের বাংলায় নতুন আশা
এই দীর্ঘ সময়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শুধু যে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে তাই নয়, শহিদ পরিবারগুলির দাবি, সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেও তাঁদের উপর নানা ধরনের অত্যাচার চালানো হয়েছে। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর, নতুন সরকারের ইস্তেহার ও কার্যপদ্ধতি দেখে আজ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তাঁরা। শহিদ পরিবারগুলির কথায়, “এতদিন আমরা অবহেলিত ছিলাম, এখন নতুন সরকারের কাছে আশা রাখছি যে আমাদের ছেলের খুনের বিচার আমরা পাব।”
এখন দেখার, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দাড়িভিট কাণ্ডের তদন্তে কী গতি আসে। ৮ বছর ধরে যে ন্যায়বিচার অধরা ছিল, নতুন সরকারের জমানায় তা কি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে? এখন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে দারিভিট।


