রাজ্যের খবর

Burama Chaos: ভোগের প্রসাদ শেষ! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ভক্তরা, বালুরঘাটের বুড়ামা কালীবাড়িতে ভাঙচুর

অভিযোগ, মন্দির কমিটি বুড়ামার কাছে ভোগ নিবেদন না করেই খিচুড়ি রান্না করে তা বিতরণ করছিল। এই নিয়েই ক্ষোভ ছড়ায় ভক্তদের মধ্যে।

বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: ভোগের প্রসাদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ভক্তরা। মঙ্গলবার বালুরঘাটের বিখ্যাত বুড়ামা কালীবাড়িতে শতাধিক ভক্ত দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ভোগ না পেয়ে রীতিমতো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। কুপন হাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অন্নভোগ না পেয়ে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, পরে ভোগের হাঁড়িও ভেঙে ফেলেন কয়েকজন উত্তেজিত ভক্ত। শেষমেশ পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং নিজেরাই ভোগ বিতরণের দায়িত্ব নেন।অভিযোগ, মন্দির কমিটি বুড়ামার কাছে ভোগ নিবেদন না করেই খিচুড়ি রান্না করে তা বিতরণ করছিল। এই নিয়েই ক্ষোভ ছড়ায় ভক্তদের মধ্যে। যদিও মন্দির কমিটির দাবি, “কিছু অধৈর্য মানুষের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”সোমবার গভীর রাতে হয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীশ্রী বুড়া কালী মাতার পুজো। প্রায় চারশো বছরের পুরনো এই পুজোয় প্রতি বছরই নিয়মমাফিক বলি দেওয়া হয় শোল ও বোয়াল মাছের, সঙ্গে থাকে পাঁঠার মাংসের ভোগ (Burama Chaos)।

বুড়ামার ভোগ নিয়ে বালুরঘাটবাসীর আবেগও তুঙ্গে। প্রতিবছরই ভক্তরা কুপন কেটে ভোগ গ্রহণ করেন। এবছরও ১৫০ টাকার কুপন দিয়ে একদিন আগেই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন শতাধিক মানুষ। মঙ্গলবার সকালে সেই ভোগ বিতরণের সময় নির্ধারিত ছিল।সকাল থেকে প্রথমদিকে ভোগ বিলি চললেও পরে অভিযোগ ওঠে ভোগ শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ লাইনে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে ওঠেন ভক্তরা। অনেকেই কুপন ছিঁড়ে ফেলেন, কেউ কেউ মন্দির চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এমনকি হাঁড়িতে থাকা ভোগও ভেঙে ফেলেন কয়েকজন ক্ষুব্ধ ভক্ত। চাপে পড়ে মন্দির কমিটির লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যান। খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছুক্ষণ পুলিশ ও আধিকারিকরা মন্দিরে মোতায়েন ছিলেন, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ভক্ত প্রশান্ত দাস বলেন, “কুপন কেটে সকলে ভোগ নিতে এসেছে। তারপরও কিভাবে ভোগ কম পড়ে যায়? পরে খিচুড়ি রান্না করে দেওয়া হচ্ছে, সেটা তো ভোগ নয় (Burama Chaos)।

অনেকেই সেই ভোগ না নিয়ে চলে গেছেন।”অন্যদিকে পূজা সমিতির সম্পাদক অমিত মহন্ত বলেন, “প্রায় ৩০-৩৫ জনের সঙ্গে এমনটা হয়েছে। কেউ দেরিতে এসেছেন, কেউবা লাইনে ধৈর্য রাখতে পারেননি। সারারাত জেগে কাজের পর একটু দেরি হয়েছে ঠিকই, তবে শেষ পর্যন্ত সকলকে ভোগ দেওয়া হয়েছে। কেউ বাকি থাকলে এলেই আমরা দেব।”
শহরবাসীর মতে, বুড়ামা কালীপুজোর মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোয় এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক। “মায়ের ভোগ নিয়ে বিতর্ক, এটা ভাবতেই খারাপ লাগে”— বলছেন এক প্রবীণ বাসিন্দা।

Related Articles