“সেদিন অধিকারী পরিবার থাকবে না”, শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মন্ত্রী বেচারামের
লুর দাম কমতে থাকায় সম্প্রতি বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখান।
সেখানেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে সভায় বেচারাম মান্না (Becharam Manna) বলেন, “বলছেন ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরের জমিতে কারখানা হবে। আপনার বাবার জমি? জমি তো চাষিদের। জোর করে চাষির জমি নিতে এলে আবার আন্দোলন হবে। বলছে, বেচারাম ডাকাত। আগে বলেছিল চুন সুড়কির ব্যবসা করে। প্রতিবার আসে একটা করে তকমা লাগায়। যেদিন বেচারাম সত্যিকারের ডাকাত হবে সেদিন অধিকারী পরিবার থাকবে না। বেচারাম আন্দোলন করে উঠে এসেছে। আলু ব্যবসায়ী দের বলবো এদের প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিভ্রান্ত হবেন না। মমতা বন্দোপাধ্যায় আছেন। আপনাদের চিন্তা নেই।”
“সেদিন অধিকারী পরিবার থাকবে না”, শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মন্ত্রী বেচারামের pic.twitter.com/X8mNsivrsH
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) August 15, 2025
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “সিঙ্গুর কৃষক আন্দোলনের পীঠস্থান। সেখানে প্রধান ফসল আলু। আর সেই আলু আমাদের আহার দ্রব্য। অর্থাৎ মা লক্ষীর আশীর্বাদ। আর এই মা লক্ষীর দ্রব্য পা দিয়ে মাড়িয়েছে। মা লক্ষীকে সিঙ্গুরে পা দিয়ে মাড়িয়ে গেছে বিরোধী দলনেতা। এরা বাংলাকে অশান্ত করতে নেমেছে। মা লক্ষী, মা সরস্বতীকে এরা সম্মান দেয় না। কটা এই এলাকার মানুষ ছিল? এলাকার একটা চাষিও উঁকি মারেনি। বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। নাসিকের পেঁয়াজ চাষিদের মতো আলুচাষিদেরও ভর্তুকি দিতে হবে।”
তিনি (Becharam Manna) তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “শুভেন্দু তো কৃষক আন্দোলনে জড়িয়ে ছিলেন। এখন ভোল পাল্টেছেন। শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খুব শখ। ও দাদা থেকে দাদু হবে তারপরেও যদি কোনও ওয়ার্ড থাকে সেটাও হবে, কিন্তু কোনওদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবে না। তোমাদের এমন ভাবে মাথায় রাগ উঠেছে যে পা দিয়ে মাড়িয়েছো সেই পাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে দেবে সিঙ্গুরের গণতন্ত্রপ্ৰিয় মানুষ।”
তাঁর কথায়, “প্রকৃত কৃষক বন্ধু মমতা। বিজেপি আলু নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। এবারে আলুর উৎপাদন হয়েছে ১৪২ টন। অতিরিক্ত আলু উৎপাদন। বাইরেও তাই। রাজ্যে রেকর্ড পরিমান হয়েছে। গত বছর এখানে আলুর দাম মানুষকে ৪৫ টাকা কেজি খেতে হতো যদি না মমতা ব্যানার্জী হাল ধরতেন। শুভেন্দু বাবুর যদি এতোই আলু চাষিদের ওপর দরদ তো রাসায়নিক সারের দাম কমান। ২০১৯ সালে যে সারের বস্তা ১১০০ টাকা ছিল এখন তার দাম ১৮৫০টাকা। জবাব দিতে পারবেন শুভেন্দু?। হঠাৎ করে কৃষক দরদী হয়ে আলু মারাতে এসেছিলেন। কুকুর ছাগল ও ঘুরে তাকায় না। দেড়শো কৃষক ছিল না।”
প্রসঙ্গত, বুধবার শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে, ১৫ টাকা কিলো দরে আলুচাষিদের কাছ থেকে ২ কোটি ২০ লক্ষ বস্তা আলু কিনবে বলে সার্কুলার জারি করেছিল। এগ্রিকালচার মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট থেকে এই সার্কুলার জারি করা হয়। কে করে? এখানকার ডাকাত বেচারাম মান্না (Becharam Manna) (সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের কৃষি বিপনন মন্ত্রী)। সাবসিডি দিয়ে কিনবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। লোক দেখানো কয়েক হাজার বস্তা কিনে বন্ধ করে দিয়েছে।”
[আরও পড়ুন: “ভাল আছে এখন”, পড়ুয়াদের দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী]
এদিকে বিজেপি দলনেতার সেই বক্তব্য নস্যাৎ করে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল ৯ টাকা কেজি দরে চাষিদের কাছ থেকে আলু কেনা হবে এবং তার সময়সীমা ছিল ৩১ মার্চ অবধি। এর মধ্যে যতজন চাষি পেরেছেন আলু বিক্রি করেছেন। বিরোধী দলনেতা অসত্য ভাষণ দিয়ে গেছেন। আমার কাছে যা তথ্য আছে তা হলো দেশের মধ্যে আমরা আলু উৎপাদনে দ্বিতীয় রাজ্য। ১৪২ লক্ষ টন আলু নিয়ে আমরা দ্বিতীয়। উত্তরপ্রদেশ আলু উৎপাদনে প্রথম। তারা কি করলো? আজকেও আমি খবর নিয়েছি ওখানে হিমঘরের ভাড়া দ্বিগুন। তৈরি আলু ১০ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। আর শুভেন্দুবাবু চাষীদের অলীক স্বপ্ন দেখাচ্ছেন?”






