EC পোর্টালে ERO-দের অ্যাক্সেস বন্ধ! CEO-র চ্যাট ফাঁস করে সরব অভিষেক, পাল্টা কি বললেন মনোজ আগরওয়াল?
একে ‘ত্রিমুখী আইন লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
Truth Of Bengal: বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে CEO হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস করে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। একে ‘ত্রিমুখী আইন লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
It has come to our notice that EROs are no longer able to monitor the progress of AEROs on the ECINet portal with respect to the conduct of SIR in Bengal. This amounts to a TRIPLE VIOLATION.
FIRST, it violates Section 13B of the Representation of the People Act, which states… pic.twitter.com/nyIqeipsl4
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) February 21, 2026
এর আগেও নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ হোয়াটস্যাপ নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এনেছিলেন অভিষেক। শনিবার ফের কমিশনের আধিকারিকদের কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি দাবি করেন, ‘ইসিআইনেট’ (ECINet) পোর্টালে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের (ERO) তদারকি করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে এইআরও-রা (AERO) কী কাজ করছেন, তা আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নেই। অভিষেকের মতে, এর মাধ্যমেই ইচ্ছামতো ভোটার বাদ দেওয়ার ‘বেআইনি ক্ষেত্র’ তৈরি করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট ও আইনের ‘ত্রিমুখী লঙ্ঘন’
অভিষেক তাঁর পোস্টে আইনি পয়েন্টগুলো ব্যাখ্যা করে বলেন-
প্রথমত: জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩বি ও ১৩সি ধারা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন ইআরও-দের নিয়ন্ত্রণেই হওয়ার কথা। বর্তমান ব্যবস্থা এই আইন মানছে না।
দ্বিতীয়ত: ২০২৬ সালের ৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ভোটার তালিকার বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত কেবল ইআরও-রাই নেবেন। সেই নির্দেশকেও অমান্য করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত: নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা (জুন ২০২৫) অনুযায়ী প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও-রা যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য দায়বদ্ধ। কমিশন নিজেই নিজের সেই নিয়ম ভাঙছে।
তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন, এই গুরুতর অনিয়ম নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে দরবার করা হলেও কোনও সদর্থক সাড়া মেলেনি। কমিশনের আধিকারিকদের এই আচরণকে ‘জেঁকে বসা বাবু কালচার’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক লেখেন, “বাংলার ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ঈশ্বর সাজার ক্ষমতা কারও নেই।” পর্দার আড়াল থেকে যারা এই ভোটার বাতিলের ষড়যন্ত্র করছেন, সেই ‘বাংলা-বিরোধী জমিদারদের’ আদালত এবং জনগণের দরবারে জবাবদিহি করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে CEO জানিয়েছেন, ERO এবং AERO-দের ক্ষমতা সম্পর্কে যে আইন রয়েছে তা মেনেই কাজ হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চলতি মামলায় ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে। এরমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।







