Real Madrid CF : ক্লাব বিশ্বকাপে জয় পেয়ে শেষ ষোলোয় রিয়াল-সিটি, আল হিলাল
মাদ্রিদের ক্লাবটির হয়ে স্কোরশিটে নাম তুললেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ভালভার্দে এবং গার্সিয়া।
Truth of Bengal: ক্লাব বিশ্বকাপের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। বৃহস্পতিবার ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জ্যাবি আলানসোর দল ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করল স্লাজবুর্গকে। মাদ্রিদের ক্লাবটির হয়ে স্কোরশিটে নাম তুললেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ভালভার্দে এবং গার্সিয়া। (Real Madrid CF)
এই ম্যাচে জয়ের ফলে গ্রুপ এইচ থেকে অপরাজিত দল হিসেবে শীর্ষে থেকেই শেষ ষোলোর জায়গা পাকা করে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। নক আউট পর্বে রিয়ালকে মুখোমুখি হতে হবে জি গ্রুপের রানার্স আপ দল জুভেন্টাসের বিপক্ষে।
স্লাজবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচে রিয়ালকে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। ৪০ মিনিটে আলানসোর দলের হয়ে প্রথম গোল করেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ভিনিসিয়াস জুনিয়ার। সতীর্থ জুডে বেলিংহ্যামের ডিফেন্স চেরা থ্রু থেকে বল পেয়েই লক্ষ্যভেদ ভিনির।
[আরও পড়ুনঃ Club World Cup: ক্লাব বিশ্বকাপে জয় পেয়ে শেষ ষোলোয় রিয়াল-সিটি, আল হিলাল]
রিয়াল তাদের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। ভালভার্দের এই গোলের ক্ষেত্রে ভিনির দুরন্ত ব্যাক হিলটি ছিল চমৎকার। যেখান থেকে উরুগুয়েন তারকার গোল করাটাই ছিল স্বাভাবিক। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের এই ব্যাকহিল দেখে অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন মিডিও গুতি রডরিগেজকে। তাঁর সেরা ব্যাকপাসগুলির মধ্যে অন্যতম ২০১০ সালের জানুয়ারিতে করা রিয়াজরে দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে করা সেই দুরন্ত ব্যাকহিল। যা থেকে গোল করেছিলেন প্রাক্তন রিয়াল তারকা জিনেদিন জিদান। এবং ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় গুতির এই ব্যাকপাস ‘রিয়াজর গুতি ব্যাকহিল’ নামেই খ্যাত। (Real Madrid CF)
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর পর থেকেই প্রথমার্ধের মতো প্রতিপক্ষের ওপর দাপট অব্যাহত রাখে রিয়াল। তবুও তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৮৩ মিনিট অবধি। ৮৪ মিনিটে জ্যাবির দলের হয়ে তৃতীয় তথা শেষ গোলটি করে জয় নিশ্চিত করে দেন গঞ্জালো গার্সিয়া।
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]
ক্লাব বিশ্বকাপে এই ম্যাচে গোলের পরই রিয়ালের জার্সি গায়ে ৫৫তম ম্যাচে ২২টি গোল করে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়াস। এবং তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১৬টি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা জানান, ‘গুতির ওই ব্যাকপাসের ভিডিও আমি দেখিনি। কিন্তু তাঁর ব্যাকপাসের গল্প অনেক শুনেছি। আজকের ম্যাচের পর গুতির কথ খুব মিস করছে।’
এই ম্যাচে জয়ের পর আগামী মঙ্গলবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রি কোয়র্টার ফাইনালের ম্যাচে জ্যাবির দলকে খেলতে হবে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের বিপক্ষে।(Real Madrid CF)
অপর ম্যাচে ফ্লোরিডার ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে জুভেন্টাসের মুখোমুখি হয়েছিল পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। বাজে একটি মরসুম কাটানোর পর চলতি বছরের ক্লাব বিশ্বকাপকেই নিজেদের আবার স্বমহিমায় ফিরে আসা অঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আর্লিং হালান্ডরা। এবং সিটি তাদের ফিরে আসার ইঙ্গিতও দিতে শুরু করেছিল এবারের ক্লাব বিশ্বকাপের আসরে। প্রথম দুই ম্যাচে জেতাই শুধু নয়, এর মধ্যে আল আইনকে তারা পরাজিত করে হাফ ডজন গোলে। কিন্তু সিটি যে তাদের বিপক্ষেও এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে জ্বলে উঠবে তা হয়ত স্বপ্নেও কল্পনা করেননি ইতালির ক্লাবটি। এবং শেষ পর্যন্ত সিটির ঝড়ে উড়ে গেল জুভেন্টাস। খেলার ফল ৫-২।
গ্রুপের দুই দলই ম্যাচের শুরু থেকে বিপক্ষ দেখে আক্রমণে আসার পরিকল্পনা করে। তবে সিটির আক্রমণের কাছে বৃহস্পতিবার ইতালির ক্লাবটিকে একান্তই অসহায় মনে হয়েছে।
ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় জেরেমি ডকুর গোলে প্রথম এগিয়ে যায় টেমস পাড়ের ক্লাবটি। অবশ্য তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এর মিনিট দুয়েক বাদেই জুভেন্টাসকে সমতায় ফেরান কুপমেইনার্স।
জুভেন্টাস সমতায় ফিরতেই আক্রমণের আরও ঝাঁঝ বাড়ায় পেপের দল। ২৬ মিনিটের তারা এগিয়ে যায় কালুলুর করা আত্মঘাতী গোলে।
প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার সুবাদে দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণে এসে গোলের সন্ধানে ঝাঁপাতে থাকে পেপের দল। এর ফলেই তৃতীয় গোলের সন্ধান পায় সিটি। এবার তাদের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ৬৯ মিনিটে আবার গোল সিটির। এবার সিটিকে এগিয়ে দিলেন ফিল ফোডেন। এরপর ৭৫ মিনিটে সিটির হয়ে জুভেন্টাসের কফিনে শেষ পেঁরেকটি পুঁতে দেন সাভিনো।
এরপর অবশ্য আর ম্যাচ জেতার কোনও আশা জুভেন্টাসের ছিল না। তবুও ৮৪ মিনিটে দুসান ভালভোচিকের গোলে ব্যবধান কমায় জুভেন্টাস। তবে তাদের ভাগ্য ভাল যে আরও বেশি গোলের ব্যবধানে তাদের হারের স্বাদ পেতে হয়নি। কেননা জুভেন্টাসকে এই লজ্জার হার থেকে বাঁচান তাদের গোলরক্ষক গ্রেগোরিও। তিনি একবার নয়, কমপক্ষে সাতবার দলকে নিশ্চিত পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এবার কোয়ার্টার ফাইনালের পালা। সেখানে সিটিকে খেলতে হবে সৌদির ক্লাব আল হিলালের বিপক্ষে।(Real Madrid CF)
আর একটি ম্যাচে পাচুকার বিপক্ষে জয় পেল আল হিলাল। খেলার ফল ২-০। আল হিলালের হয়ে গোল করেন সালেম আলদাওসারি ও মার্কোস লিওনার্দো।






