Napoli: মারাদোনার ছোঁয়ায় অলৌকিক জয়, সিরিএ খেতাবে ইতিহাস গড়লো নাপোলি
ফুটবলের মেগা ইভেন্টে সুযোগ মেলেনি সদ্য সিরিএ খেতাব জয়ী দল নাপোলির।
Truth of Bengal: ক্লাব বিশ্বকাপ চলছে। ফুটবলের মেগা ইভেন্টে সুযোগ মেলেনি সদ্য সিরিএ খেতাব জয়ী দল নাপোলির। (Napoli) তবে সেই দুঃখ নাপোলির সমর্থকদের মনে যতটা না আঘাত করেছে, তার থেকে বেশি আনন্দ তাঁরা পেয়েছেন এবারের সিরিএ লিগ খেতাব জয় করে। তাই ফাইনাল ম্যাচের সেই স্মৃতিমধুর দিনটা এখনও হৃদয়ে গেঁথে আছে নাপোলি সমর্থকদের। তবে তাঁদের জয়ের পিছনে রয়েছে এক অলৌকিক ব্যক্তির ‘ঈশ্বরের হাত’। তা স্বীকারও করেন নাপোলির আপামর সমর্থক। সেই অলৌকিক ব্যক্তির নাম যে দিয়াগো আর্মান্দো মারাদোনা, তা একবাক্যে স্বীকার করেন নাপোলির সমর্থকরা।

[আরও পড়ুনঃ Jasprit Bumrah: লর্ডসে বুমরাহ ছাপালেন কপিলকে ফাইফারে]
চলতি মরসুমের সিরিএ লিগের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল নাপোলি(Napoli)। চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল ইন্টারের কাছ থেকে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও নিশ্চিত ছিল না শিরোপা জয়। তাই শেষ ম্যাচটা যে কোনও মূল্যে জিততেই হত নাপোলির ফুটবলারদের। আবার সেই ম্যাচেই সামান্য একটা ভুল শেষ করে দিতে পারত তাদের যাবতীয় সব স্বপ্ন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু খেলাটাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ছিল অলৌকিক শক্তিরও। আর দলটির নাম যদি নাপোলি হয়, তবে তাদের অলৌকিক শক্তির নাম নিঃসন্দেহে তাদেরই প্রাক্তন ফুটবলার কিংবদন্তি দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। সমীকরণের হিসেবে দেখলে একদিকে মারাদোনা আর নাপোলি, আর বাকি সব অন্য দিকে। এমনকি নাপোলির তিনটি প্রতীকেরও একটি হচ্ছেন দিয়াগো। অন্য দুটি হচ্ছে পিৎজা এবং ফুটবল। কিন্তু নেপলসের ফুটবলকে আবার মারাদোনা ছাড়া কল্পনা করা যায় না। মৃত্যুর পাঁচ বছর পরেও এখনও নাপোলির দেওয়াল থেকে শুরু করে বিলবোর্ড, বাড়িঘর কিংবা দোকানপাট সবটাই যখন দিয়াগোময়, তখন এমন নাপোলির খেতাব জয়ের ম্যাচে তিনি মাঠে থাকবেন না, তা হয় নাকি! হ্যাঁ ছিলেন তিনি। তবে গ্যালারিতে শুধু নয়, মাঠেও।
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]
কিন্তু এই প্রশ্নটা ওঠাটাই তো স্বাভাবিক যে, সেই ২০২০-র নভেম্বরে পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন, তিনি কীভাবে আবার মাঠে উপস্থিত ছিলেন সেদিন? এটা নিতান্তই অবাস্তব ছাড়া আর যে কিছুই নয়। উত্তরটা অবশ্য জানেন তাঁরাই, যাঁরা সেদিন মাঠে বসে বা টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা অন্য কোনও মাধ্যমে খেলাটা দেখেছেন। তাঁরা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন দিয়াগোর উপস্থিতি। অন্তত দু’বার তো বটেই। প্রথমবার মারাদোনা ফিরেছিলেন স্কট ম্যাকটমিনের ওপর ভর করে, আর পরেরবার রোমেলু লুকাকুর মধ্য দিয়ে। ইতালিয়ান লিগে একই সময়ে মাঠে নেমেছিল শিরোপাপ্রত্যাশী দুই দল ইন্টার মিলান ও নাপোলি। ক্যালিয়ারির বিপক্ষে জিতলে কোনও হিসাব ছাড়া চ্যাম্পিয়ন নাপোলি, কিন্তু পয়েন্ট হারানোর সুযোগ নেই। তেমনটা হলে নিজেদের ম্যাচে ইন্টার জিতলে ট্রফি উঠত তাদের হাতেই। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ইন্টার এগিয়ে যাওয়ার পর অস্থিরতা ভর করে নাপোলির মধ্যে। গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা করে একাধিকবার ব্যর্থও হয় তারা। কিন্তু যখন কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না, ঠিক তখনই পুরো গ্যালারিকে দিয়াগোময় জাদুতে স্তব্ধ করে দিলেন স্কট ম্যাকটমিনে। সতীর্থ মাতেও যখন ক্রসটা করেন, তখন ম্যাকটমিনের সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডার তো ছিলেনই, এমনকি তাঁকে ঘিরে ছিলেন ক্যালিয়ারির অন্য তিনজন ফুটবলারও। এমন পরিস্থিতিতে গোল করার জন্য মারাদোনার সেই জাদুকরীই তো দরকার ছিল তাঁর। আর ঠিক তাই হয়ত করলেন দিয়াগো। এবং তারপর তো বাকিটা ইতিহাস…। বল নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনও ফাঁকা জায়গা না থাকায় পলিতানোর ক্রসের পর শরীরটাই ভাসিয়ে দিলেন স্কটিশ মিডফিল্ডার, যার ফলে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে গিয়ে শূন্যে থাকা তাঁর পায়ের স্পর্শ পেয়ে বল সোজা জড়িয়ে যায় বিপক্ষের জালে। যার ফলে আবার ইন্টারকে পিছনে ফেলে দিল নাপোলি। এরপর নাপোলির হয়ে দ্বিতীয় গোল বেলজিয়ান তারকা লুকাকুর। সেই গোলের ক্ষেত্রেও ছোঁয়া যেন সেই দিয়াগোর গোলের।(Napoli)
গল্পটা অলৌকিক মনে হলেও নাপোলির দর্শকরা কিন্তু এখনও মন থেকে মেনে নিচ্ছেন দিয়াগোর পরোক্ষ উপস্থিতির ফলেই জয় হয়েছে তাঁদের। তাই নানাভাবে তাঁরা সেদিন স্মরণ করেছেন দিয়াগো আর্মান্দো মারাদোনাকে। যা দেখে বর্তমানে অজানা দেশের বাসিন্দা দিয়াগোও হয়ত কিছুটা হলেও ভুলে গিয়েছিলেন তাঁর শরীরের সেই জ্বালা ও যন্ত্রণা। আর এর সঙ্গে সঙ্গে নাপোলির দর্শকরা এটাও প্রমাণ করে দিয়েছিলেন দিয়াগো ছিলেন তাঁদের সঙ্গে, এবং দিয়াগো থাকবেও তাঁদের সঙ্গে চিরকাল। যা কোনওদিনই মুছে যাবে না তাঁদের হৃদয় থেকে।(Napoli)




