Haaland Premier League: ইতিহাস গড়লেন আর্লিং হাল্যান্ড! প্রিমিয়ার লিগে পূর্ণ করলেন গোলের সেঞ্চুরি
Truth of Bengal: প্রিমিয়ার লিগে আবারও রোমাঞ্চ ছড়াল ম্যানচেস্টার সিটি, রোমাঞ্চ ছড়ালেন আর্লিং হাল্যান্ড। নরওয়েজিয়ান এই গোলমেশিন পূর্ণ করলেন নিজের প্রিমিয়ার লিগ কেরিয়ারের গোলের সেঞ্চুরি। আর সেই ঐতিহাসিক রাতেই দলকে উপহার দিলেন এক নাটকীয় জয়। রবিবার রাতে ক্রেভেন কটেজে গোলবন্যার ম্যাচে ফুলহ্যামকে ৫–৪ গোলে হারিয়েছে পেপ গুয়ার্দিওলার দল। হাল্যান্ডের হ্যাটট্রিক, দুই দলের আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা — সব মিলিয়ে ম্যাচটি পরিণত হয় চলতি মরসুমের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে।
খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফুলহ্যাম নিজেদের ঘরের মাঠে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল, যা বোঝা যায় তাদের গতিময় শুরুতেই। তবে ১৫ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সিটি প্রথম গোলটি পায় হাল্যান্ডের পা থেকে। গোল হজম করেও পিছিয়ে যায়নি ফুলহ্যাম। দ্রুতই এক গোল করে ম্যাচে সমতা আনে তারা। এরপর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। সিটিও পিছিয়ে থাকেনি — তারা আরও আক্রমণ সাজাতে থাকে এবং প্রথমার্ধেই ম্যাচটি উত্তেজনার কেন্দ্রে পৌঁছে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন হাল্যান্ড। প্রথম গোল দিয়ে শুরু করা তিনি তৈরি করেন আরও দুটি গোলের সুযোগ। ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রস, ফোডেনের দ্রুতগতির দৌড়, আর হাল্যান্ডের প্রতিটি ‘টাচ’ — সবই যেন গোলের জন্য প্রস্তুত। ৭২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে প্রিমিয়ার লিগে নিজের ১০০তম গোলটি করেন হাল্যান্ড।
এত কম ম্যাচ খেলে গোলের সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা খুবই কম, আর সেই তালিকায় এখন আছে এই ২৪ বছর বয়সী তারকার নামও। এদিনের গোলগুলো শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং লিগ ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। তবে ম্যাচ শেষের দিকে এসে ফুলহ্যামও হাল ছাড়েনি। তারা লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য একের পর এক আক্রমণ শুরু করে এবং শেষ দশ মিনিটে দুই গোল করে সিটিকে চাপে ফেলে। তবে সিটিও দারুণভাবে ম্যাচ সামলায়। পাল্টা আক্রমণে তারা পঞ্চম গোলটি তুলে নেয়, যা ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠজুড়ে দেখা যায় ম্যান সিটির ভক্তদের উল্লাস। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ম্যানচেস্টার সিটি। কঠিন মাঠে, কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন রোমাঞ্চকর জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে — মত ফুটবল বিশ্লেষকদের। ম্যাচ শেষে কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা বলেন, ‘হাল্যান্ড বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। চাপের মুহূর্তেও তিনি যে শান্ত ও মারাত্মক ফিনিশিং দেখান, তা তাঁকে আলাদা স্তরে নিয়ে যায়।’ একই ম্যাচে হ্যাটট্রিক, দলের জয় নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি — এ যেন এক নিখুঁত রাত। লিগে নিজের জায়গা আরও দৃঢ় করলেন হাল্যান্ড। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষেও যেতে পারেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।



