অফবিট
Trending

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের তাগিদে ভারতের প্রথম শব ব্যবচ্ছেদ এক বঙ্গসন্তানের, জানেন কি কে ছিলেন তিনি?

India's first postmortem of a Bengali in a bid for scientific observation

The Truth Of Bengal : ৩ শতকের বেশি সময় পেরনো এই তিলোত্তমা কলকাতা এক আশ্চর্য নগরী। ৩ শতকের বেশি সময় ধরে এই শহরে ঘটে যাওয়া আজব ঘটনার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এরকমই এক আজব বা বলা ভালো সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা অত্যাধুনিক এক ঘটনার সাক্ষী এই কলকাতা নগরী।

সময়টা ১৮৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি। স্থান কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। তখন তার পোশাকি নাম ছিল বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ। ওইদিন ওই কলেজের বাঙালি চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার মধুসূদন গুপ্ত এমন এক কাণ্ড ঘটান যা অদ্ভুত হলেও তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাসে। শুধু বাংলা নয়, ভারতের ইতিহাসেও তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য শব ব্যবচ্ছেদ করেছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন
তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ২০১৪ সালে রাজ্য সরকার মধুসূদন গুপ্তর সম্মানে ১০ জানুয়ারিকে মেডিক্যাল এডুকেশন ডে বা ডাক্তারি শিক্ষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।

হুগলির বৈদ্যবাটীর বৈদ্য বংশের কৃতী মেধাবী সন্তান মধুসূদন গুপ্ত ডাক্তারি পড়তে ১৮২৫ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে পড়তে ভর্তি হন। সসম্মানে ৩ বছর পর ডাক্তারি পাশ করেন। এরপর ১৮৩৫ সালে যখন এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ খোলা হলে তিনি সেখানে একজন শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। বেশ কয়েক বছর বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে তিনি এখানে চিকিৎসক অধ্যাপক রূপে কাজে যোগ দেন। মনে রাখতে হবে সময়টা ছিল ব্রিটিশ রাজশাসনের প্রবল প্রতাপের কাল। আর মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন একজন ভারতীয়। তবুও তিনি কাজের দক্ষতার জন্যই সবার সমীহ আদায় করেছিলেন। তারপর মধুসূদন গুপ্ত এমন একটি কাজ করেছিলেন তাতে সেই সময় কলকাতা তথা বাংলা ও গোটা দেশে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। তখনো পর্যন্ত কোনোভাবে শব ব্যবচ্ছেদ হয়নি এদেশে। তিনিই সাহস দেখিয়েছিলেন যা এই শহরকে ‘প্রথম’ তকমা লাগাবার অধিকার দিয়েছিল।

১৮৩৬ সালের ১০ জানুয়ারি বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বার শব ব্যবচ্ছেদ করেন মধুসূদন গুপ্ত। অধ্যাপক হেনরি গুডইভের তত্ত্বাবধানে ৪ জন ডাক্তারি পড়ুয়ার সহায়তায় তিনি এই দুরূহ কাজ সম্পন্ন করেন। সমাজ থেকে প্রবল বাধার আশঙ্কায় সেদিন বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজকে মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়। ৬ মাস ধরে শব ব্যবচ্ছেদ করার প্রশিক্ষণ নেন মধুসূদন গুপ্ত।

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য শব ব্যবচ্ছেদ করার পর হিন্দু মহাসভা মধুসূদন গুপ্তকে সমাজচ্যুত করে। তবে মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এক বিতর্ক সভার আয়োজন করে। এতে পৌরহিত্য করেন নবদ্বীপের মহারাজা। বিতর্ক সভায় পণ্ডিতদের গোহারা হারিয়ে মধুসূদন গুপ্ত সমাজে তাঁর হারানো জায়গা ফিরে পান। আবার তিনি স্বমহিমায় নিজের কর্মজীবনে ফিরে যান। সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে মধুসূদন গুপ্ত শব ব্যবচ্ছেদের মতো এক কঠিন ও ভয়ানক কাজকেও এত নিপুণ ভাবে করেছিলেন যে তাঁকে এযুগের দৃষ্টিতে এক অনন্য সাধারণ সাহসী কর্মবীর বললেও অত্যুক্তি হয় না।

FREE ACCESS