আজকের দিনে

‘ভোলে বোম, তারক বোম’, আপনভোলা শিব সন্তুষ্ট সামান্য বেলপাতায়

Shivratri

The Truth of Bengal: শিবরাত্রি। অর্থাৎ, যে রাতটি শিবের উদ্দেশে নিবেদিত। এক বছরে প্রতি মাসে একটি করে মোট ১২টি শিবরাত্রি পালন করা হয়। তার মধ্যে মহাশিবরাত্রি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গোটা দেশে ধূমধামের সঙ্গে পালন করা হয় মহাশিবরাত্রি। শিবরাত্রি আসলে হল শিব ও পার্বতীর মিলন উত্‍সব। ওম নমঃ শিবায় এবং হর হর মহাদেব মন্ত্রোচ্চারণে গমগম করে উঠবে সমস্ত শিবমন্দির। দেবাদিদেব শিবের সঙ্গে এই রাতে মিলন ঘটে প্রেম, সৌন্দর্য ও উত্‍পাদন ক্ষমতার দেবী পার্বতীর। দেবী পার্বতীর অন্য নাম শক্তি। শিব ও শক্তির মিলনের উত্‍সব শিবরাত্রি। শিব ও পার্বতী হলেন মিলন, প্রেম ও শক্তির আধার। মহাশিবরাত্রির উত্‍সব তাঁদের এই মিলন ও আত্মিক বন্ধনকে উদযাপন করে। শিবরাত্রির ব্রতকথা অনুযায়ী, এদিন এক শিকারি বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে শিকার না পেয়ে একটি বেলগাছের ডালে আশ্রয় নেয়। গাছের পাতা ছিঁড়ে নীচে ফেলতে থাকে। সেখানে নীচে একটি শিবলিঙ্গ ছিল। বেলপাতা পড়ায় খুশি হয়ে মহাদেব তাকে আশীর্বাদ করেন। খুব অল্পতেই সন্তুষ্ট শিব। তাই সামান্য বেলপাতা পেলেই আর কিছু দরকার হয় না তাঁর। এতেই খুশি দেবাদিদেব।

শিব শ্মশানচারী। কখনও ভিক্ষুকরূপে দেবী অন্নপূর্ণার পাশে। আবার কখনও শবরূপে মহামায়ার পদতলে তাঁর অবস্থান। কোনও উপাচার ছাড়া স্রেফ ভক্তিভরে ডাকলেই তিনি সাড়া দেন। এমনই ভোলা মন তাঁর। তবু শুধুমাত্র তাঁকে উদ্দেশ্য করেও প্রচলিত রয়েছে এক ব্রত। যা নিষ্ঠাভরে পালন করলে মৃত্যুর পর ঠাঁই মেলে শিবলোকে।

এদিনই দেবতা ও রাক্ষসদের সমুদ্র মন্থনের ফলে ভয়ানক কালকূট বিষ উঠে এসেছিল। সেই বিষের জ্বালায় ছটফট করতে থাকে গোটা বিশ্ব। সৃষ্টি রক্ষা করতে মহাদেব সেই বিষ নিজের কণ্ঠে ধারণ করেন। বিষে তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। তাই তাঁর আর এক নাম নীলকণ্ঠ।

মহাশিবরাত্রিতে কঠোর ভাবে উপবাস পালনের রীতি আছে। এদিন শিবলিঙ্গের রুদ্র অভিষেক পুজো করা হয়। জল, দুধ, মধু, আখের রস ও দই দিয়ে শিবলিঙ্গের পুজো করা হয়। এছাড়া ধূতরো ফুল এবং ফল মহাদেবের অভিষেকের জন্য অবশ্যই দিতে হয়। বিবাহিতা মহিলারা মহাশিবরাত্রিতে স্বামীর মঙ্গল কামনা করে উপবাস রেখে পুজো করেন। অবিবাহিতা মহিলারা শিবের মতো স্বামীর পাওয়ার প্রার্থনা করে এদিন উপবাস রেখে পুজো করেন।

দেশের সব জায়গায় শিবলিঙ্গ থাকলেও গোটা দেশে জ্যোতির্লিঙ্গ আছে শুধুমাত্র ১২টি। যেখানে যেখানে জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে, সেখানে স্বয়ং শিব এক আলোকরশ্মি রূপে প্রকট হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। কেদারনাথ থেকে সোমনাথ, বৈদ্যনাথ থেকে কাশী বিশ্বনাথ, দক্ষিণে রামেশ্বরম থেকে সব রাজ্যে পূজিত হন শিব।

বাংলার সমাজেও শিবের মহিমা অপার। ভক্তরা প্রাণভরে দেবাদিদেবের আরাধনা করেন। বিশেষ এই দিনটিতে বাংলার আকাশবাতাসে আওয়াজ ওঠে– ভোলে বোম, তারক বোম।

Related Articles