Zoo Breeding: বিশ্বে প্রথম, বিরল প্রজাতির সুমাত্রান গন্ডারের সফল প্রজনন আলিপুর চিড়িয়াখানায়
Alipore Zoo made history with the world’s first successful captive breeding of the rare Sumatran rhinoceros
Truth Of Bengal: ১৮৭৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর স্থাপিত হয় আলিপুর চিড়িয়াখানা। যার পোশাকি নাম জ্যুলজিক্যাল গার্ডেন। এত বছর ধরে একের পর এক পালক যোগ হয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানার সাফল্যের মুকুটে (Zoo Breeding)। আলিপুর চিড়িয়াখানায় প্রথম বার ১৮৮৯ সালে সুমাত্রান গন্ডারের সফল প্রজনন ঘটানো হয়। চিড়িয়াখানার প্রথম সুপারিন্টেন্ডেন্ট রামব্রহ্ম সান্যালের তত্ত্বাবধানে নর্দান সুমাত্রান গন্ডার ও সুমাত্রান গন্ডারের মধ্যে সফল প্রজনন ঘটানো হয়।
বিরল প্রজাতির গন্ডার হল সুমাত্রান গন্ডার। এই ঘটনার ১১২ বছর পর আমেরিকার সিনসিনসটি চিড়িয়াখানায় ২০০১ সালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সুমাত্রান গন্ডারের সফল প্রজনন ঘটানো হয়। যা অনেক আগেই করে দেখিয়েছিল আলিপুর চিড়িয়াখানা।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায় খ্রীস্টপূর্বের সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে চিড়িয়াখানার জন্ম(Zoo Breeding)। গ্রিক শব্দ জুন বা পশুপাখির থেকে এসেছে জ্যু বা চিড়িয়াখানা কথাটি। অতীতে চিড়িয়াখানায় মানুষও বিশেষ করে ক্রীতদাস বন্দী করে রাখা হত। ১৯ শতকে আমেরিকার চিড়িয়াখানায় খাঁচার মধ্যে রাখা হয় পিগমি মানুষ। বিশ্বের প্রথম আধুনিক চিড়িয়াখানা লন্ডনে স্থাপিত হয় ১৮২৮ সালে।
১৮৭৬ সালের ১ জানুয়ারি চিড়িয়াখানার উদ্বোধন করেন তৎকালীন ব্রিটিশ রাজকুমার প্রিন্স অফ ওয়েলস সপ্তম এডওয়ার্ড। তাঁর কাছ থেকে উপহার মেলে ২টি হস্তিশাবক, একটা চিতাবাঘ ও আজীবনের জন্য আর্থিক সাহায্য। ১৮৭৬ সালের ১ মে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় চিড়িয়াখানার দরজা।
প্রথমে চিড়িয়াখানায় রাখা হয় আফ্রিকার মোষ, চার শিঙাওয়ালা ভেড়া, কাশ্মীরি ছাগল, বাঁদর, চিতল হরিণ, শম্বর, গ্যাজেল ও বিভিন্ন রকমের প্রজাতির পাখি। প্রথমের দিকে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য মিলিটারি ব্যান্ড বাজানো হত। তবে শুধু দর্শকদের মনোরঞ্জন নয় ১৮৭৬ সালের প্রশাসনিক রিপোর্ট অনুযায়ী চিড়িয়াখানা তৈরির উদ্দেশ্য ছিল প্রাণী বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা, চিড়িয়াখানার মধ্যে বন্দী প্রাণীদের সফল প্রজনন ও দেশী গৃহপালিত পশুদের মিশ্র প্রজনন দ্বারা বংশগত উন্নতি ঘটানো(Zoo Breeding)।
চিড়িয়াখানার বন্দী দশায় সুমাত্রান গন্ডারের মতো বিরল প্রজাতির প্রাণীর সফল প্রজনন ঘটানোয় পথ প্রদর্শক আলিপুর চিড়িয়াখানা। আমেরিকার সিনসিনাটি চিড়িয়াখানায় ১৯৯৭ সালে প্রথম বার সুমাত্রান গন্ডারের প্রজনন ঘটানো হলেও তা সফল হয়নি। গর্ভপাত হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত আলিপুর চিড়িয়াখানার ১১২ বছর পর ২০০১ সালে আমেরিকার চিড়িয়াখানায় জন্ম হয় সুমাত্রান গন্ডারের। পশুবিদ্যার জগতে আরেক সফল প্রজনন ঘটানো হয় যখন ১৯৭২ সালে আলিপুর চিড়িয়াখানায় বাংলার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আর আফ্রিকান সিংহীর মধ্যে মিলন ঘটিয়ে হাইব্রিড বা শংকর জাতীয় প্রাণী টাইগনের জন্ম হয়। ২ শাবকের নাম সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় রাখেন রুদ্রাণী ও রঞ্জিনী(Zoo Breeding)।
১৮৪২ সালে প্রথমবার তখনকার এশিয়াটিক সোসাইটির কিউরেটর ডঃ জন ম্যাকলেন্ড ক্যালকাটা জার্নাল অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি বইয়ে কলকাতায় জ্যুলজিক্যাল গার্ডেন গড়ার প্রস্তাব দেন। পরেও একাধিক বার তিনি এই প্রস্তাব দেন। স্যর রিচার্ড টেম্পল বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হওয়ার পর ৫ সদস্যর বিশেষ কমিটি গড়েন। ১৮৭৫ সালে সেই কমিটি চিড়িয়াখানার জায়গা ঠিক করে। জমির পরিমাণ ছিল ১৫৬ বিঘা, ৫ হাজার টাকা সরকারি আর্থিক অনুদান মেলে।
পশু সংগ্রহের জন্য চালাঘর নির্মাণ করা হয়। খাঁচা তৈরি হলে পশুপাখি সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়। একাজে উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জর্জ কিংকে সাহায্য করেন বঙ্গসন্তান রামব্রহ্ম সান্যাল, যিনি চিড়িয়াখানার প্রথম ভারতীয় সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে নিযুক্ত হন। পশুপাখি দিয়ে ও আর্থিক সাহায্য করেন বাংলার বহু বিত্তশালী ব্যক্তি। আলিপুর চিড়িয়াখানায় নিয়মিত আসতেন নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ। এসেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ ও ভগিনী নিবেদিতাও। আলিপুর চিড়িয়াখানার জনক বলা হয় কার্ল লুই সোয়েন্ডলারকে(Zoo Breeding)।






