কলকাতা

সংসদে এবার অন্য সমীকরণ! রাজ্যসভায় গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস প্রাক্তন সভাপতি!

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির জন্য নির্ধারিত একটি মাত্র আসনে দলের এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকেই বেছে নিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

Truth of Bengal: বাংলার রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ রাহুল সিনহার সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। মঙ্গলবার দোলের পুণ্যলগ্নে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির জন্য নির্ধারিত একটি মাত্র আসনে দলের এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকেই বেছে নিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আগামী ১৬ মার্চ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সংশ্লিষ্ট আসনে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁর জয় কার্যত নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের হয়ে উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়, রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ প্রধান রাজীব কুমার, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। এবার বিজেপিও তাদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে লড়াইয়ের চিত্র পরিষ্কার করে দিল। মঙ্গলবার শুধু বাংলা নয়, বিহারসহ মোট ছয়টি রাজ্যের নয়টি আসনের জন্য তালিকা প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। বিহার থেকে উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নাম, যাঁকে বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে দিল্লিতে পাঠাচ্ছে দল। বিহারের অন্য আসনটিতে প্রার্থী করা হয়েছে দিলীপ কুমারকে।

রাহুল সিনহার এই মনোনয়ন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক বড় স্বীকৃতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আশির দশকে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মাধ্যমে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে পদ্মশিবিরের ঝান্ডা বয়ে নিয়ে চলেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর তিনি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় স্তরেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া আসন থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে লড়াই করে পরাজিত হওয়ার পর বেশ কিছুকাল তিনি কোনো স্থায়ী সাংগঠনিক পদে ছিলেন না।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার রাহুল সিনহাকে সরাসরি জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনল বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনের আগে বর্ষীয়ান এই নেতাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের পুরনো কর্মীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করল গেরুয়া নেতৃত্ব। কোনো আসনেই বিরোধী প্রার্থী না থাকায় ১৬ মার্চের নির্বাচনটি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে চলেছে। ফলে কোনো বাধা ছাড়াই সংসদের উচ্চকক্ষে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন রাহুল সিনহা।

Related Articles