মাঠে মেসির আশেপাশে এত লোক কোথা থেকে এল? শতদ্রুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
শতদ্রু দত্ত স্বীকার করেছেন যে কলকাতায় থাকাকালীন দর্শকদের আচরণে বেশ বিরক্ত ছিলেন আর্জেন্তিনার এই মহাতারকা।
Truth of Bengal: লিওনেল মেসি ভারত সফর শেষ করে ফিরে গেলেও তাঁকে ঘিরে যুবভারতী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার রেশ এখনও কাটেনি। এই ঘটনায় ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন খোদ আয়োজক শতদ্রু দত্তও। ধৃত আয়োজককে জেরা করে এবার উঠে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সূত্রের খবর, শতদ্রু দত্ত স্বীকার করেছেন যে কলকাতায় থাকাকালীন দর্শকদের আচরণে বেশ বিরক্ত ছিলেন আর্জেন্তিনার এই মহাতারকা। বিশেষ করে বারবার তাঁকে জড়িয়ে ধরা বা গায়ে হাত দিয়ে ছবি তোলার বিষয়টি মেসি একেবারেই পছন্দ করেননি। বিষয়টি তিনি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিকদের মাধ্যমে আয়োজকদের জানিয়েছিলেন। শতদ্রু দাবি করেছেন, বারবার ঘোষণা করা সত্ত্বেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার জেরে সমালোচনার মুখে পড়ে তদন্ত চলাকালীন নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা মেসির অতি সন্নিকটে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য জোরাজুরি করেছিলেন।
𝑴𝒆𝒔𝒔𝒊 𝑴𝒂𝒏𝒊𝒂 in India 🇮🇳
80k packed stadium in Kolkata as Messi continues his tour through the country 🏟️👀
🎥 @ddsportschannel pic.twitter.com/40iye4hMtf
— 433 (@433) December 13, 2025
মাঠের ভেতর নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেঙে কীভাবে এত মানুষ ঢুকে পড়ল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শতদ্রু। তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মাত্র ১৫০ জনের জন্য গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড বরাদ্দ ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের প্রচণ্ড চাপে সেই সংখ্যা তিন গুণ বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই সাধারণ দর্শকরা গ্যালারি থেকে মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি, যার ফলে উত্তেজিত জনতা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়।
জেরায় এই সফরের বিপুল খরচের হিসাবও সামনে এনেছেন আয়োজক। শতদ্রু জানিয়েছেন, লিওনেল মেসিকে ভারত সফরের জন্য ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ভারত সরকারকে কর বাবদ দিতে হয়েছে আরও ১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই গোটা আয়োজনে মোট ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই বিশাল অংকের ৩০ শতাংশ এসেছে স্পনসরদের থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ টাকা সংগৃহীত হয়েছে টিকিট বিক্রি করে। সিটের আধিকারিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনে কোনও অস্বচ্ছতা ছিল কি না।






