উত্তরবঙ্গের ভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত জনজীবন, কবে মিলবে স্বস্তি?
এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে বিক্ষিপ্ত এবং দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
Truth Of Bengal: টানা ভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে পাহাড়ি নদীর জল ঢুকে গিয়েছে বহু বাড়িতে। ফলে জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গে আর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কিছু কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।(Bengal Weather)
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি বর্তমানে শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়েছে এবং সেটি এখন উত্তর-পূর্ব বিহারে অবস্থান করছে। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে বিক্ষিপ্ত এবং দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, আপাতত মৎস্যজীবীদের জন্য কোনও সতর্কতা নেই।(Bengal Weather)
উত্তরবঙ্গে অতিবৃষ্টি নতুন নয়। হাওয়া অফিসের রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর এই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ৩৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তুলনায়, ২০১৭ সালের আগস্টে হাসিমারায় ৪৭৮.১ মিলিমিটার এবং ২০২০ সালের জুলাই মাসে গাজোলডোবায় ৪৬৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। সাম্প্রতিককালে, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট নিউল্যান্ড টি গার্ডেন এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩৬২.৬ মিলিমিটার। আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপরের জেলার কিছু অংশে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে, বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমবে বলে জানানো হয়েছে।(Bengal Weather)
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতিও বেশ নজরকাড়া। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও নদিয়ায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বুধবারও একই ধারা বজায় থাকবে, এবং একইসব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। তবে, দক্ষিণবঙ্গেও বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কমবে বলে পূর্বাভাস।
কলকাতা ও তার আশপাশের অঞ্চলেও বজায় থাকবে মেঘলা আকাশ। মঙ্গলবার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।
সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৩ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৪ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি কম। বাতাসে সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮২ শতাংশ।






