কল্যাণী থেকে সোজা লালবাজার! পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কী নিয়ে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর?
দুর্নীতি ও দুষ্কৃতী দমনে ‘জিরো টলারেন্স’! কল্যাণী থেকে ফিরেই লালবাজারে শুভেন্দুর সারপ্রাইজ ভিজিট
Truth of Bengal: ছাব্বিশের নির্বাচনে পালাবদলের পর রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক সংস্কারে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে রাজি নন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকালে নদিয়ার কল্যাণীতে তিন জেলার মেগা প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করেই বিকেলে সোজা কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে পৌঁছে গেলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর লালবাজারের মাটিতে শুভেন্দু অধিকারীর এটাই প্রথম পা রাখা। স্বাভাবিকভাবেই, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এদিন দুপুর থেকেই সাজো সাজো রব উঠেছিল লালবাজারের পুলিশ কর্তাদের অলিন্দে। সেখানে পৌঁছেই কলকাতা পুলিশের কমিশনার (CP) অজয় নন্দা এবং অন্যান্য শীর্ষ আইপিএস (IPS) অফিসারদের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি।
ইদের নিরাপত্তা ও বাহিনীর আধুনিকীকরণ নিয়ে মেগা বৈঠক
নবান্ন সূত্রের খবর, আগামী বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র কোরবানি ইদ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই তিলোত্তমা কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়। এবারের ইদেও যাতে শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ মানচিত্র ধরে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইদের নিরাপত্তার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের আধুনিকীকরণ, নতুন শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একগুচ্ছ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে। বর্তমানে লালবাজার ভবনের একাধিক অংশে সংস্কারের কাজ চলছে, সেই কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুষ্কৃতী দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে অপরাধ ও দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। এদিন লালবাজারের অলিন্দে দাঁড়িয়েও পুলিশ কর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি সেই ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) বার্তারই পুনরাবৃত্তি করেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক রং না দেখে শহরের সমস্ত দুষ্কৃতী ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর হাতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, লালবাজারের এই সফরের ঠিক আগের দিনই, অর্থাৎ সোমবার আলিপুরের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘সৌজন্য’-তে কেন্দ্রীয় সরকারের পদস্থ আমলাদের সঙ্গে এক মেগা বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রেখে কীভাবে বাংলার উন্নয়নকে গতি দেওয়া যায়, সেটাই ছিল সেই বৈঠকের মূল নির্যাস। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কল্যাণী থেকে লালবাজার, শুভেন্দুর এই ঝোড়ো প্রশাসনিক দৌড় এক নতুন কর্মসংস্কৃতির বার্তা দিচ্ছে।





