কলকাতা

১০ লক্ষ টাকা ও পরিবারের একজনকে চাকরি! আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের জন্য বড় ঘোষণা মমতার

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে।

Truth of Bengal: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও প্রাণহানির ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সিঙ্গুরের একটি জনসভা থেকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য একগুচ্ছ সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তিনি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন। বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে যে শ্রমিকরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের দেওয়া ১০ লক্ষ টাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা ও ডেকরেটরস কোম্পানি যৌথভাবে আরও ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে।

এদিকে আনন্দপুরের ওই ভস্মীভূত গোডাউন থেকে উদ্ধারকাজের যে ছবি উঠে আসছে, তা অত্যন্ত শিহরণ জাগানো। তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত তিনটি পোড়া কঙ্কালসহ মোট ১৬টি দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ২৩ জন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে, বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতাও তুঙ্গে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ উঠেছে, গোডাউনটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি জলাশয় বুজিয়ে বেআইনিভাবে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। কেন সেখানে কোনো ফায়ার অডিট করা হয়নি এবং দিনের পর দিন কীভাবে এমন একটি বিপজ্জনক জায়গায় কাজ চলছিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

উল্লেখ্য, রবিবার রাত ১টা নাগাদ এই বিধ্বংসী আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের ১৫ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর রবিবারের ঘোষণার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Related Articles