কলকাতা

নির্বাচন কমিশনের চাপে ফের আত্মহত্যা বিএলও-র! কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তোপ তৃণমূলের

তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে যে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তারই বলি হতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের।

Truth Of Bengal: ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে ‘অমানবিক চাপে’র জেরে রাজ্যে ফের এক সরকারি কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে যে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তারই বলি হতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার ২০৬ নম্বর পার্টের বিএলও (BLO) হারাধন মণ্ডল আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশৃঙ্খল ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই প্রক্রিয়ার চাপের মুখে পড়েই হারাধনবাবু চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। মৃত ওই কর্মীর সুইসাইড নোটেও কাজের অমানবিক চাপের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিষেক দাবি করেন।

তৃণমূল নেতার দাবি, বিজেপির নির্বাচনী লাভের জন্য ‘ভোটার-ক্লিনজিং’ অপারেশন বা ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের এক পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে তৈরি হওয়া আতঙ্ক, উদ্বেগ এবং ক্লান্তিতে এ পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, পদ্ধতিগত স্বচ্ছতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কমিশন একটি বিশেষ দলের রাজনৈতিক পাটিগণিত এবং ‘একজনের অহং’ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যু বিজেপির কাছে একটি ‘পাদটীকা’ বা প্রয়োজনীয় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

নিজের পোস্টে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “ইতিহাস সব দেখছে। বাংলা এই ঘটনা কোনওদিন ক্ষমা করবে না এবং ভুলবেও না।” এই আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএলও এবং সরকারি কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

Related Articles